এই সমস্ত জেলা থেকে ১৬৯৪ জনের চাকরি বাতিল, তালিকা পৌছল জেলায় জেলায়

নতুন বছর পড়ার আগেই সরকারি কর্মীদের জন্য দুঃসংবাদ। বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া ১,৬৯৪ জন রাজ্য সরকারি কর্মীর চাকরি যেতে চলেছে। এর ফলে অনেকের মধ্যেই যেমন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তেমনই বঞ্চিত অনেকে আশার আলো দেখছেন। এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

স্বাভাবিকভাবেই মনের মধ্যে প্রশ্ন উঠবে, কোন ১৬৯৪ জন রাজ্য সরকারি কর্মীর চাকরি যেতে চলেছে? যে শিক্ষা দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে সারা বাংলা তোলপাড়, সেই মামলাতেই এবার বড়সড় চমক ঘটতে চলেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া ও ওএমআর শিট জালিয়াতির অভিযোগে রাজ্যের স্কুলগুলিতে নিযুক্ত ১,৬৯৪ জন শিক্ষাকর্মী বা অশিক্ষক কর্মী বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

1694 jobs were canceled from all these districts, the list reached district to district

কাদের চাকরি বাতিল হচ্ছে? 

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ ও হাইস্কুলগুলিতে এস‌এসসি-র মাধ্যমে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। তারাই কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের স্কুলগুলিতে নিযুক্ত শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ১,৬৯৪ জনই জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন। তারা ওএমআর (OMR) শিট কেলেঙ্কারির মাধ্যমে নিশ্চিত বেতনের সরকারি চাকরি আদায় করেছেন বলে ইতিমধ্যেই সিবিআই-এর তদন্তে উঠে এসেছে।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের শিক্ষা দফতরের পদস্থ কর্তাদের মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে এই সমস্ত চাকরি হয়েছে। এরা নাকি পরীক্ষা হলে ওএমআর শিটে প্রায় কিছুই লেখেনি। পরে তাদের ওএমআর শিট নতুন করে ভর্তি করে তাতে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়! এই বিষয়টি সামনে আসার পরই গত ২২ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু কড়া নির্দেশ দেন। জানান, ওএমআর শিট জালিয়াতি করে চাকরি পাওয়া ১,৬৯৪ জন শিক্ষাকর্মীকে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অংশ করতে হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির এই নির্দেশের পর‌ই বিষয়টি নিয়ে নড়ে চড়ে বসেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যেই তাদের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার ডিআই (District Inspector)-দের  কাছে এই বিষয়ে নোটিশ চলে গিয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টররা এবার যে সমস্ত স্কুলের শিক্ষা কর্মীদের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আছে তাদের আদালতের নির্দেশ মতো নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছেন।

নতুন বছরের ২৪ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। তার মধ্যেই অভিযুক্ত ১,৬৯৪ জন শিক্ষাকর্মীকে মামলার অংশ করে ফেলার কাজ সেরে ফেলতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানিয়েছেন, তিনি অভিযুক্ত সকল শিক্ষাকর্মীর বক্তব্য শোনার পর চূড়ান্ত রায় দেবেন।

শিক্ষা মহলের অভিমত, জালিয়াতি করে চাকরি পাওয়া ১,৬৯৪ জন শিক্ষাকর্মীর‌ই চাকরি যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

কোন কোন জেলা থেকে চাকরি বাতিল হচ্ছে? 

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া ১,৬৯৪ জন বেআইনি শিক্ষাকর্মীর যে তালিকা সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলার প্রতিটি জেলাতেই অভিযুক্তরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে সবচেয়ে বেশি আছে পূর্ব মেদিনীপুরে। শুধু এই জেলাতেই ৩৬০ জন শিক্ষাকর্মী বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন। পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে এই সংখ্যাটা ২৯৮ জন। এই দুই জেলা মিলিয়েই এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেআইনি শিক্ষাকর্মী আছেন। তবে বাকি জেলারাও খুব একটা পিছিয়ে নেই।

এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মালদা সহ বিভিন্ন জেলাতেই এই বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া অশিক্ষক কর্মীরা সামিল আছেন। অবশ্য প্রতিটি জেলাতেই অযোগ্য কর্মীদের তালিকা পৌছে গিয়েছে বলেছে জানা যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এদের সকলের চাকরি বাতিল হবে। 

বিঃদ্র: নতুন কোনো চাকরি ও কাজের আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান। নিচে যুক্ত (Join) হওয়ার লিংক দেওয়া রয়েছে ঐ লিংকে ক্লিক করলেই যুক্ত হয়ে যেতে পারবেন। ওখানেই সর্বপ্রথম আপডেট দেওয়া হয়। আর আপনি যদি অলরেডি যুক্ত হয়ে থাকেন এটি প্লিজ Ignore করুন।  

Important Links:  👇👇
কাজকর্ম WhatsApp গ্রুপে জয়েন হোনClick Here
✅ Telegram ChannelJoin Now

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 রাজ্যের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে গ্রুপ-C গ্রুপ-D পদে চাকরি

🎯 মোদী প্রতিটি মেয়েকে দিচ্ছে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা

🎯 জলবিদ্যুৎ নিগমে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি