ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল থেকে মুখ সরিয়ে বইমুখী করতে শিক্ষা দপ্তরের দারুন সিদ্ধান্ত, স্কুলগুলিকে এই নিয়ম মানতেই হবে!

স্মার্টফোনে একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়ার হাতছানি, সেইসঙ্গে নিত্যনতুন অনলাইন গেমের দুনিয়া কেড়ে নিচ্ছে দিনের এক বড় সময়। তাতেই মজে থাকা মন ব‌ইয়ের দুনিয়া থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পড়ুয়াদের। মাঝে মারণ ভাইরাস করোনা এসে দুটো বছরের জন্য আর‌ওই সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে।

এর ফলে বই পড়ার অভ্যাসটা ছেলেমেয়েদের বলতে গেলে একেবারেই চলে গিয়েছে। আবার স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন শুরু হলেও কিছুতেই পড়ায় মন বসছে না পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের বই পড়ার অভ্যেস ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। 

A great decision of the education department to turn students away from mobile phones and towards books

বর্তমান প্রজন্ম শুধু যে ডিজিটাল ডিভাইসে মজে থাকায় বিপদ বাড়ছে তা নয়। বই না পড়ার ফলে নিজের ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়টাও ঘটছে না। ফলে বর্তমান প্রজন্মের এক বড় অংশ পরিবারের সঙ্গে থেকেই ছিন্নমূল হয়ে বেড়ে উঠছে। যা শিশুদের প্রকৃত বিকাশ ও মানসিক গঠনের ক্ষেত্রে মোটেই ভালো নয় বলে শিক্ষাবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। এই অবস্থায় রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফর স্কুলগুলিকে সজাগ হয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।

পড়ুয়াদের বইমুখী করতে কী কী নির্দেশ এল

রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফর সম্প্রতি হাই স্কুলগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। তাতে প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বাকি সহ-শিক্ষকদের বলা হয়েছে ছেলেমেয়েদের বইমুখী করতে আরও সজাগ ও তৎপর হয়ে পদক্ষেপ করতে।

পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির প্রতিটি পড়ুয়ার মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রত্যেকের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে এবং তাদের মনে বই নিয়ে আগ্রহ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে শিক্ষকদের।

• এই নির্দেশিকায় প্রতিটি স্কুলে লাইব্রেরি অর্থাৎ গ্রন্থাগারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত হাইস্কুলে এখনও গ্রন্থাগার নেই, তাদের অবিলম্বে গ্রন্থাগার তৈরি করে উপযুক্ত সংখ্যক বই রাখতে নির্দেশ দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফর। আর যাদের গ্রন্থাগার আছে তাদের সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। ছোটদের পছন্দ হবে, তারা পড়তে চাইবে এমন গল্পের বই, কমিকস বই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থাগারের পরিবেশ যাতে আরও স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি হয় সেটাও দেখতে বলেছে স্কুল শিক্ষা দফর। এর জন্য গ্রন্থাগারের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা স্বচ্ছন্দে স্কুলের গ্রন্থাগারে যায় এবং সেটি নিয়মিত ব্যবহার করে।

• পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও ছেলেমেয়েরা যাতে নিয়মিত গল্পের বই পড়ে তার জন্য উৎসাহ দিতে বলা হয়েছে। পড়া গল্পের বই নিয়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে আলাপ-আলোচনা করতে উৎসাহ যোগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের।

• প্রতিমাসে একজন পড়ুয়া পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে অন্ততপক্ষে তিনটি গল্পের বই যাতে পড়ে সেই বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। এর জন্য পড়ুয়াদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফর।

• মাসের শেষে যে পড়ুয়া সবচেয়ে বেশি বই পড়বে তার নাম স্কুলের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে সবাইকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

সব মিলিয়ে স্কুলের সিলেবাসের পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যেসও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভালো করে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষকদের কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

বিঃদ্র: নতুন কোনো চাকরির আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান। নিচে যুক্ত (Join) হওয়ার লিংক দেওয়া রয়েছে ঐ লিংকে ক্লিক করলেই যুক্ত হয়ে যেতে পারবেন। ওখানেই সর্বপ্রথম আপডেট দেওয়া হয়। আর আপনি যদি অলরেডি যুক্ত হয়ে থাকেন এটি প্লিজ Ignore করুন। 

Important Links:  👇👇

কাজকর্ম Whatsapp গ্রুপে জয়েন হোন: Click Here

✅ Telegram Channel: Click Here

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 ৫০% এর কম নম্বর থাকলেও এরা টেটে বসতে পারবে

🎯 বরখাস্ত ২৬৯ প্রাইমারি শিক্ষক পেল লাইনলাইন

🎯 টেট পাশ অথচ 40 বছর বয়স তাদের জন্য সুখবর

🎯 মাধ্যমিক পরীক্ষায় নতুন নিয়মে এরা পাবে অতিরিক্ত সুবিধা