WBCS চাকরি ছেড়ে বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি, চাকরি ছাড়ার কারন চমকে দেওয়ার মতো

তিনি নিজেও এক সময় বেকার ছিলেন। বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় পৌঁছেছেন। তাই যোগ্য বেকার চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে হওয়া কোনও ধরনের প্রতারণা মেনে নেবেন না। তাদের চোখের জলকে ব্যর্থ হতে দেবেন না। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের আলোচিত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একসময়ে WBCS পরীক্ষা পাশ করে সরকারি আমলার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিশেষ এক কারনে সেই স্বপ্নের চাকরি ছেড়ে দেন। এখন তিনি হাইকোর্টের সুপরিচিত একজন বিচারপতি। আজকে আমরা তার সম্পর্কে না জানা কিছু তথ্য আপনার সাথে শেয়ার করবো। 

Abhijit Gangopadhyay Left WBCS Job and Now Justice

কেমন ছিল জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন?

অল্প বয়সে বাবা মারা গিয়েছিলেন। কার্যত অভাবকে সঙ্গী করে ১৯৭৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকের পর্ব পেরিয়ে হাজরা ল’কলেজে ভর্তি হন। তবে সেই সময় পড়াশোনায় তাঁর খুব একটা মন ছিল না বলেও জানিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

WBCS পরীক্ষা পাশ ও চাকরির জীবন শুরু 

স্নাতক হওয়ার পর নিজের মেধার জেরেই WBCS পরীক্ষায় পাশ করে আমলার চাকরি পান। উত্তরবঙ্গে পোস্টিং হয়। কিন্তু সেখানে এক বিশেষ রাজনৈতিক দল জমির পাট্টা বিলি নিয়ে তাঁর উপর জোর জবরদস্তি শুরু করে। অথচ স্পট ইনস্পেকশনে গিয়ে তিনি দেখতে পান, যাদের পাট্টা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাদের নিজেদের নামে যথেষ্ট পরিমাণে জমি আছে।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় WBCS চাকরি কেন ছাড়লেন?  

বরাবর আইন ও সততার সঙ্গে চলা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেদিনও এই অন্যায় দাবি মেনে নেননি। কিন্তু এর ফলে তাঁর প্রাণ সংশয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপরই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করবেন না বলে WBCS এর লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি আইন পাস করেছিলেন। সেটাকেই পুঁজি করে আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করেন।

আদৌ আইনজীবী হিসেবে কিছু করে উঠতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শুরুর দিকে সন্ধিহান ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথাতেই সেটা ফুটে উঠেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে দ্রুত একজন সফল আইনজীবী হয়ে ওঠেন তিনি। যে শিক্ষকদের জন্য তিনি সফল আইনজীবী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন তাঁদের প্রতি আজও কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার রায়দানের ক্ষেত্রে তিনি যে এই নীতি নিয়েই চলেছেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে কোনও সমালোচনা তাঁকে টলাতে পারবেনা বলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

(WBSSC) স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলা

তাঁর থেকেই জানা গেল, প্রায় টানা এক দশক তিনি এসএসসি অর্থাৎ স্কুল সার্ভিস কমিশনের হয়ে তাদের যাবতীয় মামলা লড়তেন। ফলে এসএসসির অভ্যন্তরীণ আঁটঘাঁট সম্বন্ধে তাঁর ভালোই জানা আছে। তাই পরে বিচারপতি হওয়ার পর তাঁর কাছেই যখন শিক্ষা সংক্রান্ত মামলাগুলো আসতে শুরু করে দুর্নীতি ধরতে তাঁর যে কিছুটা হলেও সুবিধা হয়েছে সেটা নিজের মুখেই জানিয়েছে জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়।

টেট, এসএসসি হোক বা প্রাথমিকের, কোনও ক্ষেত্রেই কোনরকম দুর্নীতির সঙ্গে যে আপোষ করা হবে না তা নিজের মুখেই ঘোষণা করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জানিয়েছেন তাঁর দুটি লক্ষ্যের কথা। এক, যোগ্য বঞ্চিতরা চাকরি পাবে। দুই, যারা ঘুষ দিয়ে অথবা অন্যায় পথে সরকারি চাকরি পেয়েছেন তাঁদের চাকরি যাবে। সেইসঙ্গে এতদিন ধরে যে বেতন পেয়ে এসেছেন তা কড়ায়গণ্ডায় সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকেই জানা গেল, এই বছর দুর্গাপুজোর ঠিক আগে যেমন ১৮৭ জন বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাচ্ছেন, তেমনই গত বছর দুর্গাপুজোর আগে তাঁর রায়ের জেরে ১,২০০ জন চাকরি পেয়েছিলেন।

জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায় পরিষ্কার করে বলেছেন, বিচারপতি হিসেবে তাঁর সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। যাতে দুর্নীতি আশ্রয় করে চাকরি পেতে পরবর্তীকালে কেউ দশবার অন্তত ভাববে, তেমনই নজির তৈরি করতে চান তিনি।

👍 চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

এগুলিও পড়ুন-