৭ বছরের লড়াই শেষে প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! অবশেষে আদালতের রায়ে টেট সমস্যার সমাধান

দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াইয়ের পর সাফল্যের মুখ দেখলেন ১৮৭ জন চাকরিপ্রার্থী। আদালতের নির্দেশে মা দুর্গার বোধনের আগেই তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরিতে নিযুক্ত হয়ে যাবেন। এই ঘটনা আগেই আপনাদের জানিয়েছি আমরা। কিন্তু কেন এমন হলো কতটা কঠিন ছিল এই লড়াই সেটা আজকে জানুন। 

Primary job aspirants smile after 7 years of struggle

পরীক্ষার নোটিশ এবং আবেদন

২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার নোটিশ বের হয়। যদিও তার ফর্ম ফিলাপ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৫ সালে। ওই বছরের ২৯ জুন থেকে ৪ ঠা জুলাই পর্যন্ত টেটের ফর্ম ফিল আপ প্রক্রিয়া চলে। পরীক্ষা হয় ওই বছরেরই ৩০ আগস্ট।

রেজাল্ট পাবলিশ ও নতুন করে পরীক্ষা

পরীক্ষার পর রেজাল্ট বের হয়। এমনকি সেই ফলাফলের উপর ভিত্তি করে নিয়োগ করা হয় অনেককে। যদিও এরই মাঝে ২০১৯ সালে ফের আরেকটি টেট পরীক্ষা হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। কারণ ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। এরই মাঝে এসে পড়ে মহামারী করোনা। ফলে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়।

২০১৪ সালের টেটে ভুল প্রশ্নের জন্য মামলা

২০১৪ সালের টেটের পরীক্ষায় ৬ টি ভুল প্রশ্ন ছিল। সেই ভুল প্রশ্নের নম্বর যোগ করলে দেখা যায় বাকি সমস্ত পর্ব পেরিয়ে আরও কমপক্ষে ১৮৭ জনের চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তাদের নিযুক্ত করেনি।

স্বাভাবিকভাবেই এই চাকরিপ্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। এরই মাঝে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সমস্ত মামলা একসঙ্গে অ্যাটাচ হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে যায়।

অবশেষে ১৮৭ জন টেট চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮৭ জন চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ঐদিন পর্ষদের অফিসে যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে ওই চাকরিপ্রার্থীদের হাজির হতে বলা হয়েছিল।

২০১৪ এর টেট পরীক্ষার আসল অ্যাডমিট কার্ড সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছিল ওই ১৮৭ জনকে। সুত্রের খবর দু-চারজন বাদে সকলেই ঐদিন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসে হাজির হয়েছিলেন। সম্ভবত যারা আরও ভালো চাকরি পেয়ে গিয়েছেন তারাই ওই দিন ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে হাজির হননি।

মাঝে সাত সাতটা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এই সময় এই ১৮৭ জন চাকরিপ্রার্থী ঝড়-জল মাথায় নিয়েই আদালতে ছুটে গিয়েছেন, আবার কখনও হাজির হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসে। অনেকের পরিবারেই নানান বিপর্যয় নেমে এসেছে। তবু তাঁরা হাল ছাড়েননি। তার ফলই এবার পেতে চলেছেন। দুর্গাপুজোর আগেই প্রত্যেকের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি তাঁদের জয়নিংয়ের ডেট পুজোর আগেই দেওয়া হতে পারে বলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে খবর।

👍চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 13842 শূন্যপদে রাজ্যে SSC শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলো

🎯 রাজ্যে ভুয়ো সরকারি নিয়োগপত্রের পর্দা ফাঁস!

🎯 হিন্দুস্থান শিপইয়ার্ডে নিয়োগ 2022