নতুন প্রাইমারি টেট 2022 নিয়ে খারাপ আপডেট, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাড়ছে জটিলতা

SSC কেলেঙ্কারির পাশাপাশি প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষার ফলে কারচুপি ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করছে। ২০১৪ সালের পর প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিযুক্ত প্রায় ৬০ হাজার জনের যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সিটি।

এর‌ই মাঝে আবারো নতুন করে Tet পরীক্ষা আবার নেবে বলে ঠিক করেছে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। Primary Tet Exam 2022 এর জন্য প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে আগের দুই টেটে পাস করা প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে ফের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তা ঘিরেই দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে নতুন সভাপতি হয়েছেন গৌতম পাল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিবছর নিয়মমাফিক স্বচ্ছ টেট পরীক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই মোতাবেক Primary Tet Exam 2022 এর প্রস্তুতির শুরু হয়েছে।

Primary TET 2022 Bad Update

প্রতিটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকে চিঠি পাঠিয়ে সেখানে টেট পরীক্ষা আয়োজনের যাবতীয় পরিকাঠামো সম্বন্ধে জানতে চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কোথায় কোথায় পরীক্ষা কেন্দ্র করা যাবে, কত ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা আছে এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলকাতায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দফতরে পাঠাতে হবে জেলা সংসদগুলিকে।

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতিকে হুমকি 

কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নতুন টেট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করতেই তার বিরোধিতা করে একাধিক হুমকি ফোন আসতে শুরু করেছে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের কাছে। তিনি জানিয়েছেন, পর্ষদ নতুন টেট পরীক্ষা প্রস্তুতি শুরু করতেই তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে অসংখ্য ফোন এসেছে। যেখানে ২০১৪ ও ২০১৭ এর টেট পাস চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর নতুন পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি এই কথা না শুনলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ গৌতম পালের।

টেট পরীক্ষার সাথে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সম্পর্ক

যদিও এই হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি বলেন, “টেট পরীক্ষার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সরাসরি কোন‌ও সম্পর্ক নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রতিবছর নিয়ম করে টেট পরীক্ষা আয়োজন করতে আমরা বাধ্য। টেট পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল প্রাথমিক শিক্ষক পদে আবেদন করার জন্য উপযুক্ত প্রার্থীদের শংসাপত্র দেওয়া। যাতে যখন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি বেরোবে সেই সময় উপযুক্ত প্রার্থীরা এই শংসাপত্র দেখিয়ে আবেদন করতে পারেন।”

তিনি আরো জানিয়েছেন- পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছেন, তারা টেট পরীক্ষার নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলেও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও স্কুল শিক্ষা দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করেই যা করার করবেন।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের টেট পাস উপযুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন দফায় কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালে যে টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল তার পরীক্ষা সবে গত বছর, অর্থাৎ ২০২১ এর ৩১ জানুয়ারি হয়েছে। তাতে ৯,৮৯৬ জন পাস করেন।

কিন্তু মামলার জটিলতার কারণে তাদের কেউ এখনও পর্যন্ত শিক্ষক পদে নিয়োগ পত্র পাননি। এরই মধ্যে ফের টেট পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় অনিশ্চয়তায় ভুগছেন আগের টেট পরীক্ষায় পাশ চাকরি প্রার্থীরা। এদিকে নিয়মিত টেট পরীক্ষা না হওয়ায় নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। সব মিলিয়ে নতুন টেট পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা ক্রমশই বাড়ছে।

👍 এই রকমের চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

এগুলো পড়ুন 👇👇