অস্থায়ী ও বেসরকারি স্কুল শিক্ষকরাও পাবে সরকারি চাকরির মতো এই বিশেষ সুবিধা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খুশির হাওয়া!

বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি আজও ভারতবর্ষে প্রশ্নের মুখে। গোনাগুনতি কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থা বাদ দিলে কর্মচারীদের হেল্থ বেনিফিট, অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো দেখা যায় না।

এমনকি সরকারি আইন, নিয়ম নীতিকে অমান্য করেই রমরম করে চলছে কলকারখানা থেকে শুরু করে বেসরকারি অফিস-কাচারি, স্কুল-কলেজ সবকিছু। তবে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হতে চলেছে।

Private School Teacher Gratuity Announced

Private School Teacher Gratuity Announce Order by Supreme Court

অবসর নেওয়ার পর বা চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে কিংবা হঠাৎ দুর্ঘটনায় পড়ে কর্মক্ষমতা হারালে সরকারি চাকুরেরা গ্র্যাচুইটি পান। কিন্তু বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাওয়া যায় না বললেই চলে। কিন্তু চলতি মাসের গোড়ার দিকে সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও এবার থেকে গ্র্যাচুইটি দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট ঠিক কী বলেছে? 

সুপ্রিম কোর্ট রায় দিতে গিয়ে বলেছে গ্র্যাচুইটির সুবিধা হল একজন কর্মীর ন্যায্য অধিকার। তাঁকে কোনভাবেই এই আর্থিক নিরাপত্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বেসরকারি স্কুলগুলিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষকদের বকেয়া গ্র্যাচুইটি মিটিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত তাদের রায়ে জানিয়েছে, কোনও শিক্ষক ন্যূনতম ৫ বছর টানা চাকরি করলে তবেই গ্র্যাচুইটির আওতায় আসবেন।

বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের গ্র্যাচুইটি নিয়ে মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। প্রথমে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর বেসরকারি স্কুল মালিকদের সংগঠন ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তারা দাবি করে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকরা আসলে কর্মচারী বা Employee নন। এমনকি তাঁরা টেকনিক্যাল বা ক্ল্যারিক্যাল স্টাফও নন।

যদিও সাম্প্রতিক রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বেলা এম ত্রিবেদী বেসরকারি স্কুল মালিকদের সংগঠনের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন আইন সংশোধনের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের চাকরির ধরনের সংজ্ঞা বদলে তাঁদের মুক্তি দিয়েছে সরকার। ফলে আর গ্র্যাচুইটির সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদেরকে বঞ্চিত করা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রদানের আগে শুনানিতে বেসরকারি স্কুলগুলি জানায় তাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই গ্র্যাচুইটি দেওয়ার। যদিও সেই যুক্তিতে কান দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। তারা পরিষ্কার জানায় এটি একজন শিক্ষকের স্বাভাবিক অধিকারের বিষয়। সমর্থ্য নেই বলে কোন‌ও শিক্ষককে তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য থেকে আদালত বঞ্চিত করতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের মুখে স্বভাবতই হাসি ফুটেছে। অবসরের পর গ্র্যাচুইটির অর্থ হাতে পেলে বৃদ্ধ বয়সের চিন্তা অনেকটাই কমবে। তবে আদৌ কতগুলি স্কুল আদালতের এই নির্দেশ মানবে তা নিয়ে সংশয় আছে শিক্ষক মহলের একাংশের মধ্যে।

গ্র্যাচুইটি কি? (What is Gratuity in Bengali)

উল্লেখ্য গ্র্যাচুইটি হল সংস্থা বা কোম্পানিকে দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে অবসর নেওয়ার পর অথবা চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কর্মীকে কোম্পানি বা সংস্থার পক্ষ থেকে ধন্যবাদস্বরূপ দেওয়া আর্থিক নিরাপত্তা। তবে এদেশের গ্র্যাচুইটি আইনে পরিষ্কার বলা হয়েছে, গ্র্যাচুইটির পরিমাণ কোন‌ও মতেই সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকার বেশি হবে না।

তবে বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের দাবি শুধু গ্র্যাচুইটি নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা ডিএ, মেডিক্লেম, পিএফ, পর্যাপ্ত ছুটির সুবিধা পান না। অথচ এই নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ আছে, তারপরেও স্কুলগুলি তাঁদের বঞ্চিত করে চলেছে।

👍 চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

🔥 চাকরির আরো আপডেট 👇👇

🎯 রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দু-দুটো সুখবর

🎯 চাকরি পাওয়ার আগে এই 7 টি কথা অবশ্যই মাথায় রাখুন

🎯 রাজ্যে গ্রুপ-C ক্লার্ক এবং গ্রুপ-D পিয়ন পদে চাকরি