রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বন্ধের মুখে? বিরোধী দলনেতার মন্তব্যে আশঙ্কার ছায়া

নতুন মাস শুরু হলো। আর সরকারি চাকরি মানেই মাস পয়লা বেতন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা নভেম্বর মাসে আদৌ বেতন পাবেন তো? না, এটা আমার-আপনার কথা নয়। খোদ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মন্তব্য থেকে এই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এটি একটি সাংবিধানিক পদ‌ও বটে। সূত্রের খবর রাজ্যের কোষাগার একেবারে ফাঁকা, বেশ কয়েক মাস ধরেই একাধিক বিভাগের আধা সরকারি কর্মীদের বেতন হচ্ছে না। এবার সরাসরি সরকারের পে স্কেলের অধীনে থাকা কর্মীদের বেতন বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

শোনা যাচ্ছে পরিস্থিতি সামলাতে ফের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে হাত পেতেছে রাজ্য সরকার। আপতকালীন ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকা নাকি ধার চাওয়া হয়েছে নবান্নর পক্ষ থেকে। এই টাকা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মঞ্জুর করলে খুবই ভালো, আর তা না হলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মাথায় যে হাত পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

State government employees are facing salary freeze

তবে এর সঙ্গেই জড়িয়ে গিয়েছে রাজনীতির অঙ্ক। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পাশাপাশি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ছাড়পত্র দরকার হয়। তাই রাজ্য রাজনীতির অঙ্কে নবান্নকে চেপে ধরতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক ধার নাও দিতে পারে বলে ইতিমধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিরোধী দলনেতা কী বলেছেন?

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে রাজ্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার যে জরুরিভিত্তিক ঋণ চেয়েছে তার ফাইল নর্থ ব্লকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের কাছে পড়ে আছে। রাজ্য যাতে নতুন করে আর ঋণগ্রস্ত না হয় তাই তিনি ওই টাকা দিতে বারণ করেছেন বলেও জানান বিরোধী দলনেতা। সেইসঙ্গে তিনি প্রথম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঋণ না পেলে এবার আর সরকারি কর্মীদের বেতন হবে না।

রাজ্যের ঋণের বোঝা

ঘটনা হল, রাজ্যের ঋণের বোঝা ছয় লক্ষ কোটি টাকা পেরিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সভায় বলেছেন, কেন্দ্রের দেওয়া ঋণের সুদ গুনতে গুনতেই ভাঁড়ার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মধ্যে যেমন আশঙ্কা বেড়েছে, তেমনই ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়েছে।

একেই তারা পর্যাপ্ত ডিএ (DA) পায় না। এই নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। কারণ প্রথমে স্যাট ও পরে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে রাজ্য সরকার ডিএ মামলায় হেরে যাওয়ায় শেষ অস্ত্র হিসেবে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এর থেকে রেহাই পেতে চেয়েছে।

বাংলার সরকারি কর্মীরা ডিএ পান না বললেই চলে। এই অবস্থায় বেতন বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের যে মাথায় হাত পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স বা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের গত ৬ মাস ধরে বেতন হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জানা গিয়েছে গত ছয় মাস ধরে এনসিসি (NCC) বারবার চিঠি দিয়ে ক্যাম্পের ভাতা চাইলেও তা দিচ্ছে না রাজ্য। ফলে বাংলায় বন্ধ হওয়ার মুখে ঐতিহ্যবাহী এনসিসি ট্রেনিং। এক্ষেত্রেও প্রধান দায়ী রাজ্যের অর্থ সঙ্কট।

কাজকর্ম Whatsapp গ্রুপে জয়েন হোন- Click Here

✅ Telegram Channel: Click Here

🔥 আরো গুরুত্বপূর্ণ আপডেট 👇👇

🎯 PW ইন্টার্নশিপে বাড়িতে থেকেই 30 হাজার টাকা ইনকামের সুযোগ

🎯 রাজ্যের প্রায় ২৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর মঙ্গলবারের শুনানির উপর

🎯 রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পে ডাটা ম্যানেজার পদে নতুন চাকরি