দিদিমণির বদলে ‘ভাড়া করা মাস্টার’ ক্লাস নিচ্ছেন, ক্ষোভে ফুটছেন গ্রামবাসীরা

স্কুলে আসেন না শিক্ষিকা। কিন্তু মাসের শেষে দিব্যি সরকারের থেকে বেতন নেন। এর বিনিময়ে ভাড়া করা লোক রেখেছেন, সেই শিক্ষিকার বদলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ক্লাস নেয়! এমনই ভাড়া করা মাস্টার দিয়ে পড়াশোনা চলছে, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কোশিগ্রাম পঞ্চায়েতের শুনিয়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে!

স্কুলে না এসেও শিক্ষিকার বেতন নেওয়া এবং ভাড়ার মাস্টারের এই কার্যকলাপে ব্যাপক ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তবে শোনা গিয়েছে এই ঘটনা নতুন নয়, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এমনই কার্যকলাপ হয়ে চলেছে ওই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। অভিযোগ জানানো হলেও বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

The 'hired master' is taking classes instead of Didimani

ভাড়া করা মাস্টার আবার কী? 

1/6: শুনিয়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকার নাম অতসী বিশ্বাস। তিনি ২০০৭ সালে এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি পান। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। অর্থাৎ বাচ্চাদের ভিত তৈরি হয় এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রেই।

2/6: কিন্তু এখানকার এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল, মেন রোড থেকে প্রায় আড়াই-তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলটিতে পৌঁছতে হয়। এখানে যাওয়ার অন্য কোন‌ও যানবাহন নেই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ পথ হাঁটার ভয়েই চাকরি পাওয়ার পর থেকেই নিয়মিত স্কুলে আসেন না অতসী বিশ্বাস।

3/6: জানা গিয়েছে ওই শিক্ষিকা প্রতিমাসে দুই থেকে তিন দিন বড়জোর শুনিয়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ক্লাস নিতে যান। বাকি দিনগুলোতে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করায় ফিরোজ মল্লিক নামে এক যুবক। তাকে নাকি নিজের বেতনের একাংশ দিয়ে ভাড়া করে রেখেছেন অতসী বিশ্বাস নামে ঐ শিক্ষিকা। ওই যুবক বৈধ শিক্ষিকার বদলে মাসের বেশিরভাগ দিন ছেলেমেয়েদের ক্লাস নেন বলে জানা গিয়েছে।

4/6: যদিও এই চরম অনিয়ম নিয়ে এক সাফাই শোনা গিয়েছে ওই শিক্ষিকার গলায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অতসী বিশ্বাস নামে ঐ শিক্ষিকার দাবি, তিনি অসুস্থ। তাই তাঁকে সাহায্য করার জন্যই ওই যুবককে তিনি রেখেছেন। যদিও শিক্ষিকার দাবি মানতে রাজি নয় গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, এইভাবে ভাড়া করা লোক দিয়ে পড়াশোনা করানোর ফলে ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ঠিক করে হচ্ছে না। এতে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যেতে পারে।

5/6: ঘটনা হল, সরকারি কোনও চাকরিতে যিনি বেতন পাবেন তাঁকেই কাজ করতে হবে। কোন‌ও কারণ থাকলে তাঁকে দফতরে আবেদন জানিয়ে ছুটি নিতে হবে। কিন্তু নিজে কাজ না করে বেতনের একাংশ দিয়ে লোক রেখে তাকে দিয়ে কাজ করাবেন তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

6/6: অতীতে স্কুল, এফসিআই-এর গোডাউন, বিভিন্ন রাষ্ট্র তেল সংস্থাগুলিতে এমন ভাড়া করা লোক দিয়ে কাজ করাতে দেখা যেত। তবে সরকার কঠোর মনোভাব নেওয়ায় সেই সমস্ত ঘটনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কাটোয়ার এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকার কার্যকলাপ বুঝিয়ে দিল অতীতের সেই ঘটনা কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বিঃদ্র: নতুন কোনো চাকরির আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে যান। নিচে যুক্ত (Join) হওয়ার লিংক দেওয়া রয়েছে ঐ লিংকে ক্লিক করলেই যুক্ত হয়ে যেতে পারবেন। ওখানেই সর্বপ্রথম আপডেট দেওয়া হয়। আর আপনি যদি অলরেডি যুক্ত হয়ে থাকেন এটি প্লিজ Ignore করুন। 

Important Links:  👇👇
কাজকর্ম WhatsApp গ্রুপে জয়েন হোনClick Here
✅ Telegram ChannelJoin Now

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇 

🎯 নতুন তালিকা SSC-র, চাপে পড়ল ৯৫২ জন শিক্ষক

🎯 বিদ্যুৎ দপ্তরে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

🎯 প্রতিদিন ২ টাকা জমিয়ে মাসে পান ৩০০০ টাকা