শুধু টেট পাশেই হবে না চাকরি! 150 এর মধ্যে 150 নম্বর পেলেও চাকরি অনিশ্চিত, নিয়োগ হবে এই সিস্টেমে

পাঁচ বছর পর রাজ্যে আবার টেট পরীক্ষা হবে। তার জন্য ইতিমধ্যেই ছেলেমেয়েরা জোর কদমে অনলাইনে আবেদন করা শুরু করেছে। একই সঙ্গে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। তার উপর প্রায় নিয়মিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিষয়ে কিছু না কিছু খবর বেরোচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলিতে। যা দেখে অনেকেই ভাবছেন টেট পরীক্ষা পাস করলেই কেল্লাফতে, প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের চাকরি প্রায় হাতের মুঠোয়।

কিন্তু এই ধারণা মোটেও ঠিক নয়। আপনি টেট পাস করে, এমনকি ওতে ফুল মার্কস পেয়েও প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির নাও পেতে পারেন। বাস্তবিক পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যে নম্বর বিভাজন আছে তাতে টেট পাস করার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সেখানে প্রাপ্ত নম্বরের বিশাল গুরুত্ব আছে বিষয়টা মোটেও তা নয়।

WB TET Recruitment Weightage Mark

প্রাথমিক শিক্ষক হতে হলে টেটের গুরুত্ব কতটা?

কেন্দ্রীয় সংস্থা NCTE-এর নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র টেট পাশরাই এখন আবেদন করতে পারেন। এদিকে মোট ১৫০ নম্বরের টেট পরীক্ষা হয়। সেখানে ৬০% অর্থাৎ ৯০ নম্বর পেলে তবে পাস বলে ধরা হয়। অর্থাৎ কেউ ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষক হতে চাইলে তাঁকে ডিসেম্বরে হতে চলা টেট পরীক্ষায় অন্তত ৯০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু টেট পাশ মানেই আপনার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাঁধা, ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও তা নয়।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৫০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হয়। এই নম্বর আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে বিভাজিত। এক একটি ক্ষেত্রে নম্বরের মূল্যমান আলাদা আলাদা হয়। এক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক স্কোর সহ বেশ কিছু বিষয়ের নম্বর হিসেব করে যোগ করা হয়। ৫০ নম্বরের মধ্যে এই মূল্যমান করা হয়। 

কীভাবে হয় প্রাথমিকের নিয়োগ? 

টেট পাশের সার্টিফিকেট পাওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আপনি আবেদন করবেন। এরপর মোট ৫০ নম্বরের (৫+১০+৫+১৫+৫+১০) মূল্যায়নের ভিত্তিতে আপনার ব়্যাঙ্ক নির্ধারণ করা হবে। এই নম্বর আবার মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর, উচ্চমাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বর, টেটের নম্বর, ডিএল‌এড বা বিএড ট্রেনিং, ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের মধ্যে বিভাজিত থাকে।

(1) মাধ্যমিকের মোট নম্বর ৫

মাধ্যমিক পরীক্ষার মোট নম্বরের সর্বোচ্চ ৫ নম্বর পেতে পারেন। প্রতি ১০% নম্বরের জন্য বরাদ্দ ০.৫০ নম্বর। অতিরিক্ত বিষয়ের নম্বর বাদে কেউ মাধ্যমিকে ৮০% নম্বর পেলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি পাবেন ৪। আবার মাধ্যমিকে ৯০% নম্বর পেলে প্রাপ্ত নম্বর হবে ৪.৫।

(2) উচ্চমাধ্যমিকের মোট নম্বর ১০

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নমৃবরের মোট মূল্য ১০। এক্ষেত্রে প্রতি ১০% নম্বরের জন্য ১ নম্বর করে পাওয়া যাবে। কেউ উচ্চমাধ্যমিকে ৬০% নম্বর পেলে যোগ হবে ৬। ৭৫% নম্বর পেয়ে থাকলে যোগ হবে ৭.৫। এক্ষেত্রে পুরনো সিলেবাসে উচ্চমাধ্যমিক পাশের ‘বেস্ট অফ ফাইভ’, মানে বাংলা, ইংরেজি সহ সর্বোচ্চ ৫ টি বিযষয়ের নম্বর যোগ করে উচ্চমাধ্যমিকের মোট প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারিত হবে।

(3) টেটের জন্য বরাদ্দ ৫ নম্বর

১৫০ নম্বরের টেট পরীক্ষা হয়। তাতে ৯০ বা ৬০% নম্বর পেলে তবেই পাশ বলে বিবেচিত করা হয়। এক্ষেত্রে কেউ যদি ১৩৫ পান, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ হবে ৪.৫। কেউ ঠিক ৯০ পেয়ে পাশ করলে পাবেন ৩ নম্বর।

(4) ট্রেনিংয়ের জন্য বরাদ্দ ১৫

বিএড বা ডিএল‌এড ট্রেনিং থাকলে এই ১৫ নম্বর পুরোটাই পাওয়া যাবে। পর্ষদ যেহেতু জানিয়েছে, ট্রেনিং থাকলে তবেই শিক্ষক পদে আবেদন করা যাবে, তাই এই ১৫ নম্বর সবাই পাবে বলে মনে হয়।

(5) অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে বরাদ্দ ৫

এক্ষেত্রে NCC করা থাকলে বেশি সুবিধা হবে। NCC-C সার্টিফিকেটধারীরা পুরো ৫ নম্বর‌ই পাবেন। NCC-B ৩ নম্বর ও NCC-A ১ নম্বর পাবে। এছাড়াও জাতীয় বা রাজ্যস্তরে খেলা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কৃতীত্বের শংসাপত্র থাকলেও নম্বর পাওয়া যাবে। প্যারাগ্লাইডিং, স্কুবা ডাইভিং, রোয়িং, মাউন্টিংয়ের মতো কৃতীত্ব থাকলেও নম্বর পাওয়া যেতে পারে।

(6) ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টে বরাদ্দ ৫+৫= ১০

বাকি ১০ নম্বর ৫ ও ৫ করে যথাক্রমে ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য বরাদ্দ। বাকি নম্বরগুলো কীসে কত পাবেন তা মোটামুটি আগে থেকে হিসেব করে ফেলা যায়। তবে এই ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের নম্বরের বিষয়টি আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। 

👍চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’যুক্ত হয়ে যান

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 দীর্ঘদিন পর ফুড সেফটি অফিসে কর্মী নিয়োগ

🎯 ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরে কর্মী নিয়োগ 

🎯 প্রাইমারি টেট নিয়ে একদিনে ১,৪০০ মামলা দায়ের