রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতেও অনিয়ম, একসঙ্গে ছাঁটাই হতে পারেন রাজ্যের ২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য!

স্কুল শিক্ষার মতো এবার রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও টালমাটাল পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনর্নিয়োগকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। এই রায়ের জেরে এশিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা তুঙ্গে উঠেছে।

এক‌ইসঙ্গে এই রায়ের জেরে রাজ্যের বাকি ২৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদেরও নিয়োগ বাতিল হ‌ওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর তা যদি হয় তবে বাংলার উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কার্যত অচলাবস্থা শুরু হবে।

West Bengal University Jobs Irregularities

কেন সোনালীর নিয়োগকে অবৈধ বলল আদালত?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটা দ্বিতীয় টার্ম চলছিল। ফলে টেকনিক্যাল ভাষায় নিয়োগ নয়, তাঁকে পুনর্নিয়োগ করা হয়। আর তা নিয়েই যত সমস্যা। তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের স‌ই ছাড়াই তাঁকে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্যপালের স‌ই ছাড়া এই নিয়োগ অবৈধ।

হাইকোর্টের এই রায় চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যায়। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত‌ও তাদের রায়ে জানায়, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা বদলের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ফলে তাঁর এই নিয়োগ অবৈধ।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনর্নিয়োগের ফাইলে স‌ই করার জন্য তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে বারবার উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, কিন্তু তিনি সেই কথা শোনেননি।

তাই সরকার বাধ্য হয়ে ‘রিমুভাল অফ ডিফিকালটিজ ক্লজ’ এর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পুনর্নিয়োগ করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই যুক্তি সর্বোচ্চ আদালত শুনতে চায়নি।

কেন জগদীপ ধনখড় স‌ই করেননি?

ভারতের বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সেই সময় বারবার বলেছিলেন, নতুন সদস্যদের নিয়ে নতুন সার্চ কমিটি গঠন করে উপাচার্য পদে নতুন মুখ গুঁজে নিতে হবে। তাই তিনি পুনর্নিয়োগের ফাইলে স‌ই করেননি। এদিকে রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে পুনর্নিয়োগের দাবিতেই অনড় ছিল। আর তা থেকেই রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাতের শুরু হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোন‌ও একজনের উপাচার্য পদে টানা দুটো টার্ম থাকার সুযোগ আছে।

এই পরিস্থিতির পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য পদে রাজ্যপালকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আনার বিল পাশ হয় বিধানসভায়। যদিও সেই বিলে আজ‌ও রাজ্যপাল সাক্ষর করেননি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আচার্য পরিবর্তনের এই বিল আইনে পরিণত হ‌ওয়ার সম্ভাবনা আর‌ও কমে গেল।

বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা কোথায়?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের মতোই রাজ্যের বাকি ২৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।

তার আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরিয়ে যাওয়ায় হাইকোর্ট বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে‌ও এক‌ই পথ অনুসরণ করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সেক্ষেত্রে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা।

তবে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়উত্তরবঙ্গ এবার হিল ইউনিভার্সিটির এই তালিকার বাইরে থাকার সম্ভাবনা আছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু মল্লিকের পুনোর্নিয়োগে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় স‌ই করেছিলেন। আর সদ্য উত্তরবঙ্গ হিল ইউনিভার্সিটির তিন মাসের জন্য উপাচার্য হিসেবে ওমপ্রকাশ মিশ্রের নিয়োগ বর্তমান রাজ্যপাল লা গণেশনের সম্মতিতেই হয়েছে। তাই এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

👍চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

Join Kajkarmo Telegram.jpeg

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 পশ্চিমবঙ্গের ইউনিভার্সিটিতে নন টিচিং স্টাফ নিয়োগ

🎯 রাজ্যে ১৫০ কোটির SSC চাকরি দুর্নীতির হেড পার্থ চট্টোপাধ্যায়

🎯 উচ্চপ্রাথমিকে ১,৫৮৫ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হল