পশ্চিমবঙ্গে স্কুল শিক্ষক নিয়োগ যেন কিছুতেই এক জায়গায় স্থির হচ্ছে না। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়ার পর নতুন করে পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, প্যানেল তৈরির যে দীর্ঘ পথ চলছিল, তাতে এবার যুক্ত হল আরও একটি বাঁক।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগে আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্যানেল, ওয়েটিং লিস্ট ও সুপারিশপত্র প্রত্যাহার করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কারণ একটাই— ওবিসি সংরক্ষণের হিসাব বদলে গেছে।
ঘটনার শুরু কোথায়?
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন নয়। ২০১৬ সালের SLST নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগ বাতিল করে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে “কলঙ্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করে আদালত। তারই ফলশ্রুতিতে রাজ্য সরকার ২০২৫ সালে দ্বিতীয় SLST-র মাধ্যমে ৩৫ হাজারের বেশি শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে, যার মধ্যে একাদশ-দ্বাদশের জন্য ছিল সাড়ে বারো হাজারের বেশি পদ।
তবে এই গোটা প্রক্রিয়ায় বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতা। রাজ্যে এক সময় ওবিসিদের জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকলেও ২০১০ সালে তা বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দিষ্ট ৬৬টি শ্রেণির জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। এই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও।
জানুয়ারির তালিকা কেন বাতিল হলো?
স্কুল সার্ভিস কমিশন গত ২১ জানুয়ারি একটি মেধাতালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে ৩ হাজার ৫৮৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকা তৈরি হয়েছিল তৎকালীন সংরক্ষণ কাঠামো মেনে। এরপর রাজ্য সরকার ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার প্রজ্ঞাপন জারি করলে গোটা হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের পাঠানো সংশোধিত শূন্যপদের ভিত্তিতেই কমিশন এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। মোট শূন্যপদের সংখ্যায় বড় হেরফের না হলেও ক্যাটাগরি অনুযায়ী বণ্টন সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যার জেরেই পুরনো প্যানেলে থাকা এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
যাঁরা ইতিমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাঁদের কী হবে?
এই খবরে সবচেয়ে স্বস্তির দিকটি হল, যাঁরা আগেই ইন্টারভিউ ও নমুনা পাঠদানে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের গোটা প্রক্রিয়া নতুন করে দিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক স্কোর ও ইন্টারভিউয়ের পুরনো নম্বরের ভিত্তিতেই তাঁদের মূল্যায়ন হবে। শুধু যাঁরা সংশোধিত তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নথি নতুন করে যাচাই হবে।
নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?
| ধাপ | কাজ |
|---|---|
| ১ | নতুন করে যুক্ত প্রার্থীদের নথি ভেরিফিকেশন |
| ২ | সংশোধিত চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ |
| ৩ | নতুন প্যানেল প্রকাশ |
| ৪ | নতুন ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ |
অর্থাৎ পুরনো প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্টের জায়গা নেবে সংশোধিত সংরক্ষণ বিধি মেনে তৈরি নতুন তালিকা।
এই বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু একাদশ-দ্বাদশ নয়, নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগেও একই ওবিসি সংরক্ষণ বিতর্কের ছায়া পড়তে পারে, কারণ দুটি নিয়োগই একই ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তির অধীনে হয়েছিল। ফলে শুধু একাদশ-দ্বাদশের প্রার্থীরাই নন, গোটা রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখা প্রার্থীদের জন্যই এই ঘটনাক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: মাত্র ১ ঘন্টায় ফ্রিতে শিখুন AI ও DevOps, কোর্স শেষে পাবেন সরকারি সার্টিফিকেট
সংক্ষেপে
- আগের চূড়ান্ত প্যানেল, ওয়েটিং লিস্ট ও সুপারিশপত্র বাতিল।
- কারণ: ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশ হওয়া।
- ইতিমধ্যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রার্থীদের ফের পরীক্ষা দিতে হবে না।
- নতুন প্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের পর প্রকাশ হবে সংশোধিত মেধাতালিকা, প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট।
