স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডঃ আবেদন পদ্ধতি সহ সমস্ত তথ্য || Student Credit Card in Bengali: Details, Application Process

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছিলেন। যদিও সেই সময়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়েছিল না।

30 জুন, বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। আজ আপনারা এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট সম্পর্কিত সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

১০ লক্ষ টাকা কি সকল স্টুডেন্টই পাবে, কত দিনের মধ্যে এই ঋন শোধ করতে হবে? স্টুডেন্ট ছাড়া আর কাদের এই ঋন দেওয়া হবে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর আজ জানতে পারবেন।  

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড কি?  

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার রাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে ঋনের ব্যাবস্থা করেছে। শিক্ষার্থীরা বা চাকরিপ্রার্থীরা তাদের প্রয়োজন মতো যে ঋন পাবে সেটার জন্য তাদের একটি করে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে। তারা ঐ কার্ডের মাধ্যমে ঋনের টাকা তুলে তাদের পড়াশোনার কাজে লাগাতে পারবে।

কারা পাবে এই ক্রেডিট কার্ড?

  • মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশনের ছাত্রছাত্রীরা এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পাবে।
  • যারা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স, ডাক্তারি কোর্স বা অন্যান্য শিক্ষামূলক বা ভোকেশনাল কোর্স করছে তারাও পাবে এই সুবিধা।
  • এমনকি, যারা বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক চাকরির পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছে তারাও এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিতে পারবে।
  • পশ্চিমবঙ্গে পাঠরত এই রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা তো এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেই। সেইসঙ্গে অন্য কোনো রাজ্যে, এমনকি অন্য কোনো দেশে যদি পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে তবে তারাও এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পাবে।  

কত টাকা পাওয়া যাবে?

এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের আওতায় একজন শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋন পাবে।

১০ লক্ষ টাকা কি সকলেই পাবে?

বলা হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋন দেওয়া হবে। তবে সকলকেই যে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে এমন কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ যার যেমন প্রয়োজন তাকে সেই মতো টাকার ক্রেডিট কার্ড বা ঋন দেওয়া হবে। যেমন- যদি কারো পড়াশোনা করার জন্য বা চাকরি প্রস্তুতির জন্য ৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হয় তবে তাকে ৩ লক্ষ টাকার ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে।

অর্থাৎ, একজন তার পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋন নিতে পারবে। কেও ১০ লক্ষ টাকার বেশি ঋন নিতে পারবে না।

আবেদনকারীর বয়সসীমাঃ

40 বছর বয়স পর্যন্ত একজন ব্যাক্তিকে এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। কেননা একজন চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো চাকরির প্রস্তুতি নিতেই পারেন। তাছাড়া কোনো ব্যাক্তি যদি যেকোনো বিষয়ে গবেষনা করতে চান তবে তারও টাকার প্রয়োজন হয়। তাই কারো বয়স 40 বছর পর্যন্ত হলে সে তার পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের টাকা পাবেন, এমনটা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন।

ঋন পরিশোধের সময়সীমাঃ

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আওতায় ঋন বা লোন নেওয়ার পর তা 15 বছরের মধ্যে ঋনগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে।

আবেদনের মাধ্যমঃ

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।

কোথায় থেকে ঋন পাওয়া যাবে?

অনলাইনে আবেদন করার পর রাজ্যের সরকারী এবং বেসরকারী বিভিন্ন কোঅপারেটিভ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যাবে।

আবেদন পদ্ধতিঃ

  • wbscc.wb.gov.in এই ওয়েবসাইটটি ওপেন করতে হবে।
  • তারপর, প্রথমে ‘Student Registration’ করতে হবে।
  • Student Registration করার সময় আবেদনকারীকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেল, নাম, ঠিকানা, কোর্সের নাম ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে।
  • ঐ সমস্ত তথ্য গুলি পূরন করার পর সাবমিট করতে হবে।
  • সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে, সেটি পূরন করে দিতে হবে।
  • এরপর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজের মাধ্যমে একটি ‘অ্যাপ্লিকেশন আইডি’ আসবে। এই ভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তারপর……
  • আবেদনকারীকে ‘Student Login’ করতে হবে।
  • Student Login করার সময় অ্যাপ্লিকেশন আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ক্যাপচা দিয়ে লগ ইন করে নিতে হবে।
  • এরপর শুরু হবে আসল কাজ।
  • কোন কোর্স করা হচ্ছে, তাতে খরচ কত, সেই কোর্সের উপযুক্ত প্রমান ইত্যাদি তথ্য দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।  
গুরুত্বপূর্ণ লিংক: