সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মিলবে সফলতা, এই 7 টি কথা মাথায় রাখুন

চাকরির পরীক্ষা হোক কিংবা স্কুল-কলেজের পরীক্ষা সমস্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া খুবই জরুরী। যেকোনো পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। 

পরীক্ষা কাছাকাছি চলে আসার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে দুশ্চিন্তা এবং ভয় দেখা দেয়। এর প্রধান কারণ হল, পরীক্ষা সম্পর্কে সঠিক প্রস্তুতি না থাকা বা সঠিক দিশায় চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি না নেওয়া।

7 Tips For Cracking Government Job Exam in Bengali

তবে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখলে পরীক্ষার ভয় এবং দুশ্চিন্তা থেকে সহজে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। পরীক্ষার টেনশন সকলেরই হয়, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অধিক দুশ্চিন্তা বা ভয় এটি পরীক্ষায় সফলতার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা 7 টি এমন কথার আলোচনা করবো যেগুলো পালন করলে পরীক্ষার দুশ্চিন্তা এবং ভয় দূর করে নিজেকে সফল করতে সাহায্য করবে। চলুন এবার আমরা সেই সাতটি কথা জেনে নিই-

১. পরীক্ষার গুরুত্বকে মানতে হবে

বর্তমান সময়ে যেকোনো সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের জন্য পরীক্ষা খুবই জরুরী। আমাদের অনেক সময় মনে হয় যে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিলেই তো হয়। কিন্তু বাস্তবে সঠিক এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য পরীক্ষা নেওয়া খুবই জরুরী।

তাছাড়া স্কুল-কলেজে যদি পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা হয় তাহলে পড়াশোনার অবস্থা কী হবে তা আমরা ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে বুঝতে বাকি নেই।

২. কনসেপ্ট ক্লিয়ার রাখা জরুরি

কোনো বিষয় বা পড়া মুখস্থ করলে সহজেই ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মুখস্থ করার থেকে যেকোনো টপিক বা বিষয়কে ভালোভাবে বুঝে আয়ত্ত করে নিতে হবে। অনেক সময় পরীক্ষায় কিছু প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে। মুখস্থ করা থাকলে সহজেই সেই প্রশ্নের উত্তর গুলি আমরা আমাদের মাথা থেকে বের করতে পারিনা। কিন্তু যদি ওই বিষয়ে আমরা ভালোভাবে বুঝে তাহলে যতই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশ্ন আসুক না কেন আমরা উত্তর দিতে সক্ষম হবো।

৩. লেখার অভ্যাস খুবই জরুরি

কোনো বিষয় পড়া এবং সেটি মনের মধ্যে মুখস্ত করার চেষ্টা একদম ঠিক না। পড়ার সাথে সাথে লেখার অভ্যাস করতে হবে। আরো ভালো করে বিষয়টি বলা যাক, একটি চ্যাপ্টার ভালো করে পড়ার পর সেখান থেকে প্রশ্ন উত্তর গুলো মনে করতে হবে। তারপর সেগুলো খাতায় লিখে মিলিয়ে দেখতে হবে। এখান থেকে সহজেই বুঝতে পারা যাবে কোথায় ভুল হয়েছে এবং কোন জায়গাটায় আরো বেশি লক্ষ্য দেওয়া দরকার। প্রতিদিন পড়াশোনার পাশাপাশি কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা লেখা অভ্যাস করতে হবে।

৪. সঠিক রুটিন তৈরি

অনেক ছাত্র-ছাত্রী জোশের মাথায় খুবই সিরিয়াস রুটিন বানিয়ে ফেলে। যেটি অবশ্যই আদর্শ হয় কিন্তু বাস্তবে সেটি পালন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সকাল 5 টায় থেকে ওঠা থেকে থেকে শুরু করে রাত 11 টায় ঘুমানো অব্দি সমস্ত কাজ সেখানে থাকে।

কিন্তু না সে ভালো করে ঘুমাতে পারে, না ভালো করে খেতে পারে, আর না ভালোভাবে সে পড়াশোনা করতে পারে। তাই সঠিকভাবে পালন করা যাবে এমন রুটিন বানাতে হবে। যাতে করে খাওয়া, ঘুমানো, খেলাধুলা এবং পড়াশোনা করার সঠিক সময় নির্ধারিত হয়।

৫. নিজের এনার্জি টাইম নির্বাচন

আপনাকে আপনার এনার্জিটিক এবং ভালো মেজাজের সময়কে নির্বাচন করতে হবে। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিই। কোনো কোনো শিক্ষার্থী খুবই সকালে পড়তে ভালোবাসে আবার কেউ কেউ রাতে। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে নিজের এনার্জি টাইম নির্বাচন করে সেই সময়ে সবথেকে কঠিন বিষয়টি বুঝে পড়তে হবে।

৬. সমস্ত বিষয়কে সময় দেওয়া 

কোনো কোনো শিক্ষার্থী এমন হয় যে, তারা কোনো একটি বিষয়কে সহজ মনে করে প্রথমদিকে পড়েই না। তবে যখন পরীক্ষার সময় আসে তখন তাদের হঠাৎ করে মনে পড়ে এই বিষয়টি তাদের একবারও রিডিং দেওয়া হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের টেনশন হয় এবং নার্ভাস ফিল করে। এমন ভুল কখনোই করবেন না। শুরুতে সমস্ত বিষয়কেই গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে নিয়মিত খাতায় নোট করে রাখতে হবে। যেটি পরীক্ষার সময় রিভিশন দেওয়ার কাজে লাগবে।

৭. শিক্ষক-শিক্ষার্থী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ 

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বানাতে হবে। যেখানে শুধুমাত্র স্টুডেন্ট এবং শিক্ষক থাকবে। পড়াশোনা বিষয়ক যেকোনো সমস্যা হলে বা কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অসুবিধা হলে ওই গ্রুপে পোস্ট করে সহজেই এবং তাড়াতাড়ি উত্তর পাওয়া যাবে।

এটি খুবই নতুন কিছু নয়। কেননা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে অনলাইনে পড়াশোনা শুরু হওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করে সমস্যার সমাধানের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

এগুলোও পড়ুন-