টাইম ম্যানেজমেন্ট করার ১০ টিপস || Time Management 10 Tips in Bengali

আমরা সেই ছোটোবেলা থেকেই শুনে আসছি সময় নষ্ট কোরোনা। গুরুত্বপূর্ন সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে পাবে না। এই কথাটা আমরা প্রায় সকলেই মুখস্ত করে ফেলেছি, কিন্তু কজন সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগায়।

আজকের আর্টিকেলে আমরা টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত দশটি এমন কথা জানবো যে গুলি পালন করলে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে। এককথায় সময়কে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোককেই আমরা দেখি, যারা সারাদিন ব্যস্ত থাকে তাদেরকে দেখে আমরা মনে করি তারা অনেক কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে তাদেরকে যদি আমরা তাদের কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি তাহলে তারা বলে যে, তার অনেক কাজ এখনো বাকি আছে। কারন জিজ্ঞেস করলে সে জানায়- ‘ আমি সময় পায়নি’।

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন 24 ঘণ্টা করে পাই। তবুও অনেকে আমরা এই 24 ঘণ্টার মধ্যে সারাদিনের কাজ শেষ করতে পারি না। যদিও তারা সারাদিন ব্যস্ত থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখবেন, যে সবসময় বলে ‘আমি খুব ব্যস্ত’ আসলে সে ব্যস্ত না সে ব্যতিব্যস্ত।

অন্যদিকে অনেকে আছে যারা এই সময়ের মধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ঠিক সময় মতো সম্পুর্ন করে নেয়। ঐ কয়েকজন লোকের মতো আমরাও কিভাবে সঠিকভাবে সময়কে কাজে লাগিয়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ন কাজগুলি সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারি, চলুন জেনে নেওয়া যাক।  

Time Management 10 Tips in Bengali

একটা জিনিস আমাদের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারে না সেটা ‘সময়’। আমরা সকলেই প্রতিদিন 24 ঘণ্টা করে পায়। আর এই সময়টা কেউ বাড়াতেও পারেনা কেউ চুরি করতে পারে না এবং এটা আমরা আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারি। কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করবে না যে 24 ঘন্টায় তুমি কি কি করেছ এবং এর জন্য কোন শাস্তিও নেই। 

আজকে আমরা এই পোস্টে মোট (১০) দশটি টাইম ম্যানেজমেন্ট টিপস সম্পর্কে জানিয়েছি। যেগুলো পালন করতে পারলে আপনাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে যেতে কেউ আটকাতে পারবেনা। 

১. সকাল সকাল বিছানা ছাড়ুন

‘সকাল সকাল বিছানা’ কথাটা একটু কিরকম শুনতে লাগছে তাই না। আমরা তো সকলেই সকালে উঠি। কিন্তু খুব সকালে আমরা কজন উঠি? আপনি যদি সকাল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে পারেন তাহলে দিনের 2 থেকে 3 ঘন্টা অতিরিক্ত পাবেন। এই সময়ে আপনি আপনার পড়াশোনা বা কোনো গুরুত্বপূর্ন কাজ সেরে নিতে পারবেন। যা আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে রাখবে। 

২. আগের রাতে কাজের লিস্ট

প্রতিদিন রাত্রে আগামী দিনে অর্থাৎ পরের দিন কি কি কাজ করবেন সে গুলির একটি লিস্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো রাখবেন। চাইলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো রাখতে পারেন। তবে শুধুমাত্র যে গুলি আপনার লক্ষ্য পূরন করতে সক্ষম শুধুমাত্র সেগুলোকেই রাখলে ভালো হয়।

৩. গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রথমে করুন

আমাদের একটি অভ্যাস হলো, সামনে যে কাজটি আসে সেটিকেই আমরা প্রথমে করে ফেলি। ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আমরা কাজ করি। আর এর ফাঁকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলি পরের দিনের জন্য বাকি থেকে যায়। একজন সফল ব্যক্তি সবসময়ই তার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রথমে করে।

এর জন্য একটি খাতা বা ডাইরি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং স্বাভাবিক কিছু কাজের লিস্ট করতে হবে এবং সেই লিস্টের ভিত্তিতে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে প্রথমে করতে হবে।

৪. নিজের প্রাইম টাইম কে খুঁজে নিন

নিজেকে একটি প্রশ্ন করেন- ‘দিনের কোন সময়ে আমার পড়তে বা কাজ করতে ভালো লাগে’। সকলের ক্ষেত্রেই দিনের এমন একটি সময় থাকে যখন শরীরে এনার্জি ও কাজে মনোযোগ বেশি থাকে। সেই সময়টিকে নির্বাচন নিতে হবে। হয়তো কারো সকাল সকাল কাজ করতে ভালো লাগে, কারো আবার অনেক রাতে বা কারো দুপুরবেলায় ইত্যাদি।

কথাটি না বললেই না, একজন প্রতিদিন একই কাজ ৮ ঘন্টা ধরে করে এবং আর একজন প্রতিদিন আলাদা আলাদা ৮ থেকে ৯ টি কাজ করে। এদের মধ্যে অনেক ফারাক আছে। যে ৮ ঘণ্টা কাজ করে সে সময়ের Quantity কে মূল্য দেয়। আর যে ৮ থেকে ৯ টি আলাদা আলাদা কাজ করে সে সময়ের Quality কে মূল্য দেয়।

এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, ৮ থেকে ৯ টি আলাদা আলাদা কাজ করা ব্যাক্তি সময়কে সঠিক ভাবে ব্যাবহার করছে। 

৫. কাজের ডেডলাইন সেট করুন

কাজের ডেডলাইন বলতে আপনি কোনো একটি কাজ ঠিক কত ঘন্টা বা কত মিনিটে শেষ করবেন সেটাকেই বোঝায়। তাই কোনো কাজ শুরু করার আগেই ঠিক কাজটির ডেডলাইন সেট করে রাখুন। এমনটা করলে আমাদের মস্তিষ্ক সেই কাজের প্রতি গভীর আগ্রহী হয় এবং সে কাজটি শেষ করতে তৎপর হয়ে ওঠে। 

কাজের ডেডলাইন ঠিক করে রাখলে আপনার শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোন সক্রিয় হয় এবং আপনার সমস্ত মনোযোগ সেই কাজের প্রতি থাকে। এক্ষেত্রে মনে হয় যে, কাজটি করতে না পারলে কতই না আমার ক্ষতি হবে। আর এমন ভাবনাই কাজটি শেষ করতে সাহায্য করবে।

৬. মোবাইল থেকে বাঁচুন

আমাদের দিনের কয়েক ঘন্টা সময় সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিতে চলে যায়। তাছাড়া কোনো একটি কাজ শুরু করার সাথে সাথে মোবাইলে নোটিফিকেশন এসে আমাদের কাজের সমস্ত মনোযোগ এক সেকেন্ডে শেষ করে দেয়।

এজন্য যখন আপনি পড়াশোনা বা কাজ করবেন তখন হয় ইন্টারনেট কানেকশন অফ করে দেবেন। আর তা না হলে মোবাইলে DND (Do Not Disturb) নামের একটি অপশন অন করে রাখবেন। এর কারনে মোবাইলে কোনো নোটিফিকেশন আসলেই স্ক্রিনে তা ফুটে উঠবে না, আর কোনো আওয়াজও হবে না। 

DND

৭. উপযোগী টাইম টেবিল

একটা দিনে আপনি কি কি করবেন এবং কোন কোন সময় কি কি কাজ করবেন তার টাইম টেবিল বানাবেন। টাইম টেবিল বানানো তো খুব সহজ কিন্তু এটি পালন করা কারো কারো ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। যদি এটি পালন করতে পারেন তাহলে আপনাকে আটকানো কোনোভাবেই সম্ভব না।

৮. মোবাইল ভক্তদের থেকে দূরে থাকুন

আমাদের আশেপাশের এমন অনেক বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় আছে যারা সারাদিন শুধু মোবাইল এ চিপকে পড়ে থাকে। তাদের আর কোনো কাজ নেই। তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। যারা নিজেদের সময় নষ্ট করে তারা আপনার সময়ের মুল্য দেবে না। এটি আপনার শুনতে খারাপ লাগতে পারে, তবে এমনটা না করলে আপনিও আপনার সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারবেন না। 

৯. Pomodoro টেকনিক ব্যবহার

Pomodoro টেকনিক প্রথমে জানিয়ে দিই। কোনো কাজ শুরু করার পর 25 মিনিট অন্তর অন্তর ৫ মিনিট বিরতি নেওয়া। এমন করলে আপনার সেই কাজের প্রতি মনোযোগ বেশি থাকবে। কাজটির প্রতি আপনার বিরক্তি বোধ হবে না। চাইলে এটি ট্রাই করে দেখতে পারেন। পড়াশনার ক্ষেত্রেও এই টেকনিক ব্যাবহার করা যেতেই পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে Youtube-এ ‘Pomodoro টেকনিক’ লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। 

১০. স্টপওয়াচ ব্যবহার করুন 

কোনো কাজ শুরু করার আগে আপনি স্টপ ওয়াচ অন করতে পারেন। এতে কাজটি শেষ করতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগছে সেটি বুঝতে পারবেন। এইভাবে আপনি আপনার কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা করে রাখবেন। এমনটা করলে পরবর্তীতে আপনি আপনার কাজের স্পিড বা গতি বাড়াতে পারবেন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সময় নষ্ট না করার ১০ টিপস সম্পর্কে জানলাম। যারা চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যারা তাদের কেরিয়ারে সফল হতে চাই তাদেরকে সময়ের সঠিক ব্যাবহার সম্পর্কে সচেতন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আশা করছি আপনি আমাদের কথাগুলো বুঝতে পেরেছেন। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগান আর জীবনে অনেক অনেক এগিয়ে যান। 

এগুলোও পড়ুন-