টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করা যায়? চাকরির প্রস্তুতিতেও লাগবে টাইম ম্যানেজমেন্ট

টাইম ম্যানেজমেন্ট বলতে কি বোঝায়? টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করা যায়? আপনি যদি কোনো কাজের মধ্যে থাকেন, পড়াশোনা করেন অথবা চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেন তাহলে অবশ্যই টাইম ম্যানেজমেন্ট এর কথা অবশ্যই শুনে থাকবেন। 

আমরা সকলেই প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা করে পাই। এই ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিছু সময় বা কয়েক ঘন্টাই আমরা কাজে লাগাতে। তাই এই গুরুত্বপূর্ন সময়কে আমরা কিভাবে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি এবং কিভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব সেই সম্পর্কে জানবো। 

Time Management For Job Preparation in Bengali

টাইম ম্যানেজমেন্ট কি?

টাইম ম্যানেজমেন্ট (Time Management) এর বাংলা অর্থ হল সময় ব্যাবস্থাপনা। সত্যিই কি টাইম বা সময়কে ম্যনেজ করা যায়? সত্যি কথা বলতে কি টাইমকে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। তাহলে এখন কি করা যায়?

আসলে আমরা সময়কে ম্যানেজ করতে পারি না ঠিকই কিন্তু চাইলে নিজেদের ম্যানেজ করতে পারি। আমরা এইবার জানবো কিভাবে আমরা নিজেদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে সময়কে বা টাইমকে ম্যানেজ করব। 

টাইম ম্যানেজমেন্ট কেন জরুরী?

যদি কারো সময় ব্যাবস্থাপনা বা টাইম ম্যানেজমেন্ট ঠিক না থাকে তাহলে সে তার কোনো কাজেই সফল হবে না। বর্তমানের বিভিন্ন সফল ব্যাক্তিদের নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে আমরা বুঝতে পারব যে, তাদের সফলতার অন্যতম কারন সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট।

আপনি হয়ত চাকরি পাওয়ার জন্য চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, হয়তবা কোনো ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন অথবা কোনো না কোনো কাজের সাথে যুক্ত আছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনি কিছু না কিছু করছেন এবং জীবনে সফল হতে চান। 

নিচে টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যারা জীবনে কোনো লক্ষ্য পূরন করতে চায় তাদের একবার হলেও এগুলি জেনে রাখা দরকার।  

এমন কিছু বিষয় যা টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে দারুনভাবে কাজে লাগবে- 

লক্ষ্য নির্ধারন

জীবনে সফল হতে গেলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা অত্যন্ত জরুরী। কে কি করছে দেখার দরকার নেই, এমনটা বলব না। সব কিছুর প্রতি খবর নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা জরুরী। কিন্তু যে যা করছে করুক, নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের কাজে সফল হওয়ার দিকে যাত্রা শুরু করতে হবে। এক কথায় আপনি যে কাজটি করতে চান সেই কাজের প্রতি ফোকাস করুন এবং লক্ষ্যের প্রতি অটল থাকুন। 

জীবনকে করে তুলুন সহজ

সারাদিন কাজ কাজ বা শুধুই পড়াশোনা করলে জীবন হয়ে উঠবে জেলখানা। তাই জীবনকে সহজ করে তুলতে হবে। মানছি এই কথাটি মুখে শুনতেই ভালো লাগে। চাইলে আপনিও শত ব্যস্ততার মাঝে জীবনকে সহজ করে তুলতে পারবেন। 

মজা, আনন্দ, বন্ধুদের সাথে আড্ডা ভালো না। এটি একটি বাজে ধারনা। কেননা নিজেকে শারিরিক এবং মানসিক দিক থেকে সুস্থ্য রাখতে হলে এই সমস্ত কাজ গুলি করার প্রয়োজন আছে। তবে এটি যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয় তার প্রতি নজর রাখতে হবে। এর জন্য কিছুটা সময় বের করে নিলে ক্ষতি কিছু হবে না।  

মনকে শান্ত রাখুন

মনের মধ্যে হিজিবিজি একগুচ্ছ চিন্তা করতে থাকলে আপনি কোনো কাজই ভালো করে করতে পারবেন না। তাই মনকে শান্ত রাখতে পারলে নির্দিষ্ট কাজের প্রতি ফোকাস রাখা সহজ হবে। কাজটিও কম সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে এবং খুব ভালো বা আশাপ্রদ হবে।

তাই নিজের মনকে অবশ্যই শান্ত রাখুন। এর জন্য মেডিটেশন ভীষন উপকারী। প্রতিদিন নিয়মিত মেডিটেশন করতে পারলে নিজের মনকে শান্ত রাখা জলভাত। এটি প্র্যাকটিস করতে পারলেই একটি কাজের প্রতি মনকে ধরে রাখা অনেক সহজ হয়ে যাবে। 

মাল্টি টাস্কিং একদম না

প্রথমেই মাল্টি টাস্কিং সম্পর্কে বলি। মাল্টি টাস্কিং বলতে একসাথে অনেকগুলি কাজ করাকে বোঝায়। আপনি কি কোনো দিন একসাথে অনেকগুলি কাজ করেছেন? ভেবে দেখুন।

যদি একসাথে অনেকগুলি কাজ করা হয় তাহলে কোনো কাজেই ভালো ফল পাওয়া যায় না এবং সময় বেশি নষ্ট হয়। এক বারে একটি কাজ করলে কাজটি যেমন ভালো হয় তেমনি কাজটি সময়ের মধ্যে বা কম সময়েই করা হয়ে যায়। 

এইভাবে করতে পারেন টাইম ম্যানেজমেন্ট

একটি আলাদা খাতা করবেন। যাতে প্রতিদিনের শুধুমাত্র দরকারি কাজের লিস্ট থাকবে। যেকাজগুলি আপনার কেরিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ন শুধু সেইসমস্ত কাজগুলিকেই ঐ তালিকায় রাখবেন।

এককথায় আজ আপনি কি কি কাজ করবেন তার তালিকা তৈরি করবেন। এটি আগের দিন রাতে করে রাখলে ভালো হয়। কেননা এটি করলে নির্দিষ্ট দিনে কি কি কাজ করতে হবে এই নিয়ে টেনশন থাকে না। একবার লিস্ট দেখে নিলেই কেল্লে ফতে।  

এটি একদিনে হবে না, আপনাকে এটি প্র্যাকটিস করতে হবে। মনে রাখবেন একদিনে হয়না কিন্তু একদিন অবশ্যই হয়। এই বিষয়টি যে বুঝতে পারবে তাকে আর আটকায় কে? 

বর্তমানের ডিজিটাল সময়ে আমরা মোবাইলকে কাজে লাগিয়েও এটি করতে পারি। এর জন্য মোবাইলে Google Keep Notes অথবা আরো কিছু App ডাউনলোড করে কাজে লাগাতে পারি। এর জন্য প্লে স্টোরে গিয়ে ‘Keep Notes App’ লিখে সার্চ করলেই বেশ কিছু App পেয়ে যাবেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিদিনের দরকারি কাজের লিস্ট করতে হবে। সেটা পড়াশোনার বিষয় হতে, হতে পারে আপনার কাজের কিছু বিষয়। সেগুলিকে লিস্ট করে লিখে রাখবেন। আর কাজটি শেষ হলেই পাশে টিক দিয়ে দেবেন এবং নিজেকে বাহবা দিতে ভুলবেন না।  

আশা করছি আজকের এই “টাইম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করা যায়” বিষয়টি আপনি বুঝতে পেরেছেন। আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আপনি যেন নতুন কিছু জানতে পারেন বা আপনার কোনো উপকার হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত কিছু টিপস (Tips) সম্পর্কে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আমাদের হোয়াটসআপে মেসেজ করে বা টেলিগ্রামের পোষ্টে কমেন্ট জানান।

চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

এগুলিও পড়ুন-