Vishwakarma Yojana: বিশ্বকর্মা যোজনা এবার এরাজ্যেও চালু হচ্ছে, বাংলার ১৮ পেশার মানুষের কষ্টের দিন শেষ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১ মে নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো বিশ্বকর্মা যোজনা। রাজ্যের ছোট কারিগর ও হস্তশিল্পীদের জন্য এই প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থেই গেমচেঞ্জার হতে পারে।


বিশ্বকর্মা যোজনা আসলে কী?

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, যা ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সারা দেশে চালু হয়েছিল। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করেনি। এবার সেই বাধা কাটল।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রান্তিক এলাকার সেই সব কারিগর ও হস্তশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো, যাঁরা নিজের হাত দিয়ে বা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন। আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম এবং সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা দিয়ে তাদের জীবনমান বদলে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।


বিশ্বকর্মা যোজনায় কী কী সুবিধা পাবেন?

১. দক্ষতা বাড়াতে ৫ থেকে ৭ দিনের বেসিক ট্রেনিং দেওয়া হবে

২. প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পাবেন

৩. প্রশিক্ষণ শেষে PM বিশ্বকর্মা শংসাপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া হবে

৪. আধুনিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম কেনার জন্য ই-ভাউচারের মাধ্যমে ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা মিলবে

৫. ব্যবসা শুরু বা বাড়ানোর জন্য মাত্র ৫% সুদে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ পাওয়া যাবে — প্রথম কিস্তিতে ১ লক্ষ টাকা (১৮ মাসের জন্য) এবং সেটা শোধ করলে দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ২ লক্ষ টাকা (৩০ মাসের জন্য)

৬. ডিজিটাল লেনদেনের জন্য প্রতিটি লেনদেনে ১ টাকা করে ইনসেনটিভ পাবেন (মাসে সর্বোচ্চ ১০০টি লেনদেন পর্যন্ত)

৭. GeM-সহ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে


কোন ১৮টি পেশার মানুষ আবেদন করতে পারবেন?

কাঠমিস্ত্রি (ছুতোর), নৌকা নির্মাতা, অস্ত্র প্রস্তুতকারক, কামার, হাতুড়ি ও টুলকিট নির্মাতা, তালা মিস্ত্রি, স্বর্ণকার, কুমোর (মৃৎশিল্পী), ভাস্কর (পাথরের খোদাইকারক), মুচি বা চর্মকার, রাজমিস্ত্রি, ঝুড়ি/ম্যাট/ঝাঁটা নির্মাতা ও কয়ার বুননকারী, পুতুল ও খেলনা নির্মাতা (ঐতিহ্যবাহী), নাপিত, মালাকার (মালা প্রস্তুতকারক), ধোপা, দর্জি এবং মাছ ধরার জাল নির্মাতা।


আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

আবেদন করার আগে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে —

১. উপরে উল্লিখিত ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার যেকোনো একটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে হবে

২. আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে

৩. স্ব-নিযুক্ত (Self-Employed) হতে হবে

৪. বিগত ৫ বছরে PMEGP, PM SVANidhi বা Mudra-র মতো কোনো ঋণ-ভিত্তিক প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে আবেদন করা যাবে না

৫. একটি পরিবার থেকে মাত্র একজনই আবেদন করতে পারবেন (পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান)

৬. সরকারি চাকরিজীবী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য নন


কীভাবে আবেদন করবেন?

অনলাইনে আবেদন:

১. PM Vishwakarma Portal-এ গিয়ে ‘Home’ অপশনে ক্লিক করুন

২. ‘How to Register’ অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন করুন

৩. আধার কার্ড দিয়ে KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন

৪. রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করুন এবং PM বিশ্বকর্মা ডিজিটাল ID তৈরি করুন

৫. সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন — তথ্য নির্ভুল কিনা ভালোভাবে যাচাই করে নিন

অফলাইনে আবেদন:

১. আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর নিয়ে নিকটতম Common Service Centre (CSC)-এ যান

২. মোবাইল নম্বর ও আধার ভেরিফিকেশন এবং বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন করানো হবে

৩. নিজের পেশা, আধার নম্বর, ব্যাংক ডিটেইলস ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন

৪. প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন

৫. ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি Application ID পাবেন — এটি সংরক্ষণ করুন, পরে আবেদনের অবস্থা জানতে কাজে আসবে

Read More:: মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড, প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা মিলবে এই প্রকল্পে

Leave a Comment