চাকরি পাওয়ার আগে এই 7 টি কথা অবশ্যই মাথায় রাখুন, না জানলে পরে পস্তাতে হবে

চাকরি পাওয়ার আগে এমন সাতটি কথা রয়েছে যেগুলি মাথায় রাখা দরকার। আজকের এই চাকরি পাওয়া নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে চাকরি সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

কী পড়লে, কী করলে চাকরি পাওয়া যাবে এই ভাবনাতেই দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন হয়ে যায়। বিশ্বাস করুন চাকরি না করে জীবনে অনেক বড় হওয়া যায়। অন্তত বড় বড় মানুষরা সেটাই বারে বারে তা প্রমাণ করেছেন।

প্রথমেই আপনাকে জানায়, এই 7 টি কথা বলার মাধ্যমে চাকরি করা যে খারাপ তা কিন্তু আমরা বলছি না। এই কথা গুলি একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে তার কেরিয়ার গঠনে অর্থাৎ চাকরি না তার নিজের ব্যবসা বা কাজ শুরু করার বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। 

Keep these 7 things in mind before getting a jobচাকরি করার আগে যে 7 টি কথা জেনে রাখা দরকার সেগুলি আমরা এক এক করে জেনে নিই- 

১) চাকরি করলে নিজের উপযুক্ত মূল্য পাওয়া যায় না

চাকরি মানে মাসের শেষে নির্দিষ্ট বেতন প্রাপ্তি। এরফলে উপরের পয়েন্টকে আপনার ভুল মনে হতে পারে। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, আপনি চাকরির জন্য যে পরিমাণ শ্রম ও মেধা খরচ করেন সেই অনুপাতে বেতন পান কি?

আপনি যতোই খাটুন, আপনার নিয়োগকর্তা বা মালিক মনে করবে বেতনের থেকে কম কাজ করছেন। এদিকে পরিশ্রম অনুপাতে কম বেতন নিয়ে আপনি নিজেও কখনোই সন্তুষ্ট থাকবেন না। ফলে চাকরি করতে গিয়ে শুধুই মানসিক পরিশ্রম বাড়বে।

২) চাকরির কারনে সৃষ্টিশীলতা নষ্ট

আপনি যদি সৃষ্টিশীল মানুষ হন তবে কখনোই চাকরি করা উচিৎ নয়। কারণ চাকরির জগতে সংস্থার মালিক বা ম্যানেজিং টিম‌ই একমাত্র সৃষ্টিশীল অর্থাৎ ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলো নির্ধারণ করে। কর্মী হিসেবে আপনি তাদের যাবতীয় নির্দেশ পালন করতে বাধ্য। আপনার নিজের সৃষ্টিশীলতা বা উদ্ভাবনী চিন্তা ভাবনার কোন‌ও দাম নেই এখানে। ফলে হতাশা আসতে বাধ্য। 

৩) চাকরি করলে আর্থিক নিরাপত্তা থাকবে, এ ভুল ধারণা:

অনেকেই মনে করেন ব্যবসা করলে অনিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু চাকরি করলে আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া যায়। এ সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কথাটি আপনার ভুল মনে হতে পারে, কিন্তু টেকনকালি এটাই সঠিক।

ভারতবর্ষের মতো দেশে শুধুমাত্র কিছু সরকারি চাকরিতে হয়তো নিরাপত্তা আছে। কিন্তু বাদবাকি ক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তার বিন্দুমাত্র নাম গন্ধ নেই। কারণ আগামীকাল আপনার চাকরি থাকবে কিনা তা বুকঠুকে কেউ বলতে পারে না।

হয়তো আপনি আজ জীবনের সবচেয়ে সফল কাজটি করলেন সংস্থার হয়ে। কিন্তু আগামীকালই ম্যানেজমেন্ট বা মালিকের মনে হলে আপনাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেবে। যতই নিয়ম-কানুন থাকুক না কেন, কোনও কিছুই আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। চাকরিতে আর্থিক নিরাপত্তা কোথায়?

৪) পছন্দ না হলেও সেই কাজ করতে বাধ্য

চাকরি করছেন মানে ম্যানেজমেন্ট বা মালিকের নির্দেশ মানতে আপনি বাধ্য। তাদের কোনও সিদ্ধান্ত বা কাজ আপনার যতই অপছন্দ হোক না কেন তবু আপনাকে সেটা করতে হবে। যেকোনও সচেতন মানুষের ক্ষেত্রে এ এক মহা বিড়ম্বনার বিষয়। শুধু তাই নয় অপছন্দের কাজ দিনের পর দিন করতে হলে মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চাকরির অন্যতম বড় মাইনাস পয়েন্ট এটা।

৫) (উইকেন্ড) শনি-রবিবার এর অপেক্ষা

উইকেন্ড মানে সপ্তাহের শেষের জন্য বেঁচে থাকেন চাকরিপ্রার্থীরা! এই কথাটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন চাকরি করে আসছেন তাঁদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করুন, সকলেই এক কথা বলবেন। সকলেই সারা সপ্তাহ জুড়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন কবে শনি-রবিবার আসবে।

তার মানে কি চাকরিরতরা প্রতি সপ্তাহের শেষেই বড় বড় কোনও পরিকল্পনা রাখে? সেটাও নয়। কর্মক্ষেত্রে এতটাই মনের সঙ্গে লড়াই করে কাজ করতে হয় যে, সপ্তাহের শেষ মানে ওই জটিল আবর্ত থেকে বেরিয়ে নিজের মতো থাকবেন, এই ভাবনাতেই মানসিক শান্তি পান তাঁরা। খেয়াল করলে দেখবেন প্রতি সোমবার অর্থাৎ সপ্তাহের শুরুতে যারা চাকরি করেন তাদের মনোভাবটাই থাকে, আবার একটা সপ্তাহ জোয়াল টানো!

যারা স্বনিয়োজিত বা ব্যবসা করেন, তাঁরা অনেক বেশি ফুরফুরে মেজাজে থাকেন। নিজের মনের চাহিদা মতো ভ্রমণ করতে পারেন বা পরিকল্পনা সাজাতে পারেন।

৬) নিজের নয়, অন্যের স্বপ্ন পূরণ করছেন

যেকোনও সচেতন মানুষ মাত্রই জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে। আমরা প্রত্যেকেই অল্প সময়ের জন্য পৃথিবীর বুকে আসি। ফলে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা সবসময় করা উচিৎ। কিন্তু চাকরি করা মানে নিজের নয়, আপনি মালিকের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের শ্রম ও সময় নষ্ট করছেন। সেইসঙ্গে নিজের স্বপ্নকেও ক্রমশ গলা টিপে হত্যা করছেন আপনি!

7) যা ভালোবাসেন তাই করুন:

ধরুন আপনি একজন শেফ। বড় একটি হোটেল গ্রুপে মোটা মাইনের চাকরি করেন। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন নিজের ভাবনা অনুযায়ী একটি অন্তত ডিশ বানাতে পারেন তো? এর উত্তর হবেন না। তাই নিজে যা ভালোবাসেন তা সফল করার চেষ্টা করুন। দেখবেন অর্থ এবং মন দু’দিক থেকেই অনেক বেশি ভালো থাকছেন।

আপনাকে শেষে আবারো জানিয়ে রাখি, আমরা যে সাতটা পয়েন্ট এখানে তুলে ধরলাম তার উদ্দেশ্য আপনাকে চাকরি করা থেকে নিরুৎসাহিত করা নয়। কিন্তু কেউ যদি চাকরি করবেন না ব্যবসা করবেন, তা নিয়ে দোটানায় ভোগেন, তাকে নিজস্ব পথে চলার বিষয়ে অনুপ্রেরণা ও শক্তি জোগার জন্য‌ই এগুলো তুলে ধরা। এবার আপনি চাকরি করবেন না ব্যবসা, সে সম্পূর্ণ আপনার নিজের বিষয়।

👍 চাকরি ও কাজের আপডেট মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

🔥 আরো আপডেট 👇👇

🎯 সরকারি না বেসরকারি কোন চাকরিটি ভালো?

🎯 দেশের সবথেকে বড়ো ফ্যাশন কোম্পানিতে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ