রাজ্যের বহু আবেদনকারী এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকার জন্য। মার্চ মাস থেকে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া শুরু হলেও অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও অর্থ পৌঁছয়নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এপ্রিলে কি তবে একসঙ্গে দু’মাসের টাকা ঢুকতে পারে?
ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে যুবসাথীর টাকা
বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যাচ ধরে টাকার ক্রেডিট করা হচ্ছে। যাঁরা আগে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের তথ্য আগেই সিস্টেমে আপলোড থাকায় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে। ফলে অনেকের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে।
তবে এটা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। অনেক জায়গায় জেলা ভিত্তিক যাচাইয়ের গতি অনুযায়ী টাকা ছাড় হচ্ছে, তাই কারও আগে, কারও পরে টাকা মিলছে।
কেন দেরি হচ্ছে যুবসাথীর টাকায়?
অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ কারণে টাকা আসতে দেরি হচ্ছে—
- অফলাইনে জমা দেওয়া আবেদনগুলির যাচাইয়ে সময় বেশি লাগছে
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক না থাকা
- KYC সম্পূর্ণ না হওয়া
- DBT পরিষেবা সক্রিয় না থাকা
এছাড়াও আবেদনকারীর তথ্য জেলা স্তরে আলাদা করে যাচাই করা হচ্ছে। যেমন—তিনি বর্তমানে অন্য কোথাও কর্মরত কিনা, দেওয়া নথি সঠিক কিনা ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি যুবসাথীর টাকা
এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। অর্থাৎ, আধার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টেই টাকা ক্রেডিট হবে।
Self-attested ডকুমেন্ট নিয়ে বিভ্রান্তি
শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, ডকুমেন্ট self-attested না থাকলে টাকা আটকে যেতে পারে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই একমাত্র কারণেই সমস্যা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে self-attested না থাকলেও টাকা পাওয়া গেছে।
দু’মাসের টাকা একসঙ্গে মিলবে?
এই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা নেই। তবে যেহেতু অনেকের টাকা বকেয়া রয়েছে, তাই একসঙ্গে দুই মাসের টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উপর।
সব মিলিয়ে, যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবেদন যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলেই ধাপে ধাপে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
