TET পরীক্ষার ঠিক আগেই ফের টেট কেলেঙ্কারি, ২০১৪ টেটের ১২ লক্ষ উত্তরপত্র নষ্ট! সিবিআই তদন্তের নির্দেশ

টেট কেলেঙ্কারি মামলায় চমক যেন শেষ হচ্ছে না। এবার জানা গেল ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ১২ লক্ষ উত্তরপত্র বা OMR Sheet নষ্ট হয়ে গিয়েছে! ফলে এই ১২ লক্ষ পরীক্ষার্থী কে কত নম্বর পেয়েছিল তা আর জানা সম্ভব নয়।

এই কথা জানার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই অবস্থায় আগামী ১১ ডিসেম্বরের টেট পরীক্ষা নিয়েও কিছুটা সংশয় তৈরি হয় সংশ্লিষ্ট মহলে। 

12 lakh answer sheets of TET 2014 are lost

১২ লক্ষ টেট পরীক্ষার্থীর‌ উত্তরপত্র নষ্ট করা হয়েছে

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শূন্য শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। ২০১৪ সালে প্রায় ২০ লক্ষ ৯০ পরীক্ষার্থী টেট দেয়। তার মধ্যে ২০১৬ সালে ৪২ হাজার জনকে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়

পরে ২০২০ সালে আর‌ও ১৬,৫০০ জনকে টেট ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। যদিও এই নিয়োগ নিয়েই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

আপনাকে জানিয়ে রাখি, ২০২০ সালের নিয়োগের পরে আর‌ও ৩৯২৯ টি প্রাথমিক শিক্ষক পদে শূন্য ছিল। পদ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও কেন নিয়োগ হচ্ছে না সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন টেট উত্তীর্ণদের একাংশ। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়‌ এই বিষয়ে সরকারের হলফনামা চান। কিন্তু সেই হলফনামা আর জমা পড়েনি।

যা নিয়ে মঙ্গলবারের শুনানিতে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এই সময়‌ই আদালতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে আইনজীবী জানান, ২০ লক্ষের মধ্যে ১২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর‌ই উত্তরপত্র বা OMR Sheet নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁরা কে কত নম্বর পেয়েছিলেন তার কোন‌ও রেকর্ড নেই পর্ষদের কাছে! 

ফের টেট কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত 

এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিষয়টিতে দুর্নীতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। কীভাবে উত্তরপত্র নষ্ট হয়ে গেল তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

এই ঘটনার পর‌ই তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে নিয়ে কড়া নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁকে মঙ্গলবার‌ই সন্ধে ৮ টার মধ্যে সিবিআইয়ের সামনে হাজির হ‌ওয়ার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে এই তৃণমূল বিধায়ককে গ্রেফতার করে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও জানিয়ে দেন বিচারপতি।

২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ১২ লক্ষ উত্তরপত্র এইভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৎকালীন পরিষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের বিপদ যে বাড়ল তা বলাই বাহুল্য। এর আগেও তাঁকে বেশ‌ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই।

উল্লেখ্য, সোমবার‌ই সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি গৌতম পাল জানান আগামী ১১ ডিসেম্বর পরবর্তী টেট পরীক্ষা হবে। সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপের আশ্বাস‌ও দেন তিনি। কিন্তু সেই ঘটনার পর ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই এইভাবে বিপুল উত্তরপত্র নষ্টের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় আগামী টেট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে যে সংশয় তৈরি হল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

👍 প্রতিদিন নতুন কোনো চাকরির আপডেট মিস না করতে চাইলে কাজকর্ম ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে থাকুন

🔥 আরো আপডেট 👇👇