প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকার আয় ১ কোটি! সুকন্যার সমৃদ্ধিতে কেষ্টযোগ

যোগ্য হয়েও হাজার হাজার ছেলেমেয়ে শিক্ষকের চাকরি পাননি। বেনিয়মের চক্করে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সেই হকের চাকরির দাবিতে তাঁদের রাস্তায় বসে থাকার পর্ব ছ’শো দিন ছুঁতে চলেছে। আর‌ও বহুজন নানানভাবে বঞ্চিত হয়ে চাকরির দাবিতে নাওয়া খাওয়া ভুলে আন্দোলন করছেন।

ঠিক সেই সময় জানা গেল রাজ্যের এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকার বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি টাকা! অথচ সরকারি বেতনকাঠামো অনুযায়ী কোনমতেই দশ বছরের কম চাকরি করা একজন প্রাথমিক শিক্ষিকার বার্ষিক আয় ৫ লক্ষের বেশি হতে পারে না। তাহলে এই ভোজবাজি কী করে সম্ভব হল? প্রসঙ্গত বলে রাখা যাক ওই প্রাথমিক শিক্ষিকা হলেন অনুব্রত মণ্ডলের কন্যা সুকন্যা মণ্ডল

A primary school teacher's income is 1 crore

বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত ওরফে কেষ্টকে সারা রাজ্যের মানুষ চেনেন। গরু পাচার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তাকে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই আদালতে যে চার্জশিট পেশ করেছে তা থেকে‌ই মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের এই বিপুল আয়ের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

কেষ্ট কন্যার আয় কত বলছে সিবিআই?

সুকন্যা মণ্ডল বোলপুরের কাছে কালিকাপুরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তিনি স্কুলে না গিয়েই বেতন নেন। স্কুলের অ্যাটেন্ডেন্স রেজিস্ট্রি নাকি তাঁর বাড়ি পৌঁছে যেত! যাইহোক, এই সুকন্যা তাঁর বাবার দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষিকার চাকরি পান।

সিবিআইয়ের তথ্য বলছে ২০১২-১৩ অর্থ বর্ষে তাঁর আয় ছিল মাত্র ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা২০১৫-১৬ অর্থবছরে সুকন্যার আয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪৯ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা! এই শুরু। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে অনুব্রত কন্যার আয়।

২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে অনুব্রত কন্যার আয় কোটির গণ্ডি পেরিয়ে যায়। ওই বছর সুকন্যা মণ্ডল আইটি রিটার্নে ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা আয় দেখান। পরের বছর তাঁর আয় বেড়ে হয় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা! গত বছর সুকন্যা আয় দেখিয়েছেন ৯২ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা।

কোভিডের সময় যখন বেশিরভাগ মানুষের রোজগার কমেছে তখন একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা কী করে এতো রোজগার করল তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এক্ষেত্রে বলার বিষয় হল, এই আয় সুকন্যা মণ্ডলের ব্যক্তিগত রোজগারের হিসেব। চালকল সহ তাঁদের যে অজস্র ব্যবসা আছে তা থেকে রোজগারের হিসেব এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়াও অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ের নামে গত ৯ বছরে ১৩ টি জমি কেনা হয়েছে বলে সিবিআই চার্জশিটে জানিয়েছে।

প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা সুকন্যা মণ্ডলের এই বিপুল সম্পত্তির হিসেব দেখে আন্দোলনরত বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের মনে হয়তো অনেক প্রশ্ন তৈরি হবে। তবে তার উত্তর আমাদের পক্ষ দেওয়া সম্ভব নয়।

👍 চাকরি ও কাজের আপডেট একদম মিস না করতে চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

Join Kajkarmo Telegram.jpeg

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

 

🎯 ২০১৪ এবং ২০১৭ এর টেট পাশ করে থাকলেই চাকরি দেওয়া হবে

🎯 মাধ্যমিক পাশে রাজ্যের জেলার বিভিন্ন ব্লকে আশা কর্মী নিয়োগ 

🎯 রাজ্যে সাব ডিভিশনাল অফিসের অধীনে চাকরি