পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য বড় খবর আসছে। রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়ে দিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পোর্টাল শীঘ্রই চালু হতে চলেছে। জুন মাস থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। কীভাবে ফর্ম ফিলআপ করবেন, কারা পাবেন, কারা পাবেন না — সব কিছু জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
আগের প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন?
নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগের সরকারের সমস্ত জনমুখী প্রকল্প চালু থাকবে। তবে প্রকল্পগুলো পুরোপুরি সচল করতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এবার প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং অযোগ্য কেউ যাতে টাকা না পান সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলা হতে হবে
২. বয়স ২৫ বছরের বেশি হতে হবে
৩. নিম্ন আয়ের পরিবার বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির সদস্য হতে হবে
৪. BPL/AAY/PHH রেশন কার্ডধারী হতে হবে
৫. সরকার নির্ধারিত বার্ষিক আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে
কারা প্রকল্পের টাকা পাবেন না?
১. স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী
২. সরকার নির্ধারিত আয়ের সীমার বাইরে থাকা মহিলা
৩. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন মহিলা
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
১. আধার কার্ড
২. ভোটার আইডি কার্ড
৩. রেশন কার্ড
৪. ব্যাংকের পাসবুক
৫. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
৬. সচল মোবাইল নম্বর
অনলাইনে ফর্ম ফিলআপের পদ্ধতি
ধাপ ১ — পোর্টালে লগইন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অফিসিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটে যান। সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে লগইন করুন।
ধাপ ২ — ব্যক্তিগত তথ্য ও নথিপত্র আপলোড: আবেদনকারীর নাম, জন্ম তারিখ, বাবা বা স্বামীর নাম ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাংক পাসবুকের কপি স্ক্যান করে আপলোড করুন। সাম্প্রতিক একটি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিও আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৩ — ব্যাংকের তথ্য ও ফর্ম সাবমিট: যে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড সতর্কতার সঙ্গে বসান। সব তথ্য একবার যাচাই করে ফর্ম সাবমিট করুন এবং Acknowledgement Receipt ডাউনলোড করে রাখুন।
অফলাইনে আবেদন করা যাবে কি?
গ্রামীণ এলাকার জন্য স্থানীয় BDO অফিস বা পুরসভার মাধ্যমেও ফর্ম জমা দেওয়ার বিকল্প রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
