সাদা খাতা জমা দিয়েও হয়েছে চাকরি! ধরা পড়ল ৮,১৬৩ জন- চাকরি থাকবে কি থাকবে না?

একজন-দুজন বা দশ-বিশজন নয়, রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট দেখে চক্ষু চরকগাছ হওয়ার জোগাড়। কারণ সিবিআই (CBI) কলকাতা হাইকোর্টে যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে তা থেকে জানা যাচ্ছে হাইস্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে কমপক্ষে ৮,১৬৩ জন পরীক্ষার উত্তরপত্র, মেধা তালিকা এবং এসএসসির ওয়েবসাইটে কারচুপি করে চাকরি পেয়েছেন। এবং এই ভয়ঙ্কর দুর্নীতির সঙ্গে এসএসসি কর্তা থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রকের অনেক উচ্চস্তর পর্যন্ত যোগাযোগ আছে।

West Bengal Job Scam 8163 in Trapped

কীভাবে হয়েছে কারচুপি?

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে সিবিআইয়ের আইনজীবী মোট চারটি পৃথক পৃথক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাতে এই কারচুপির ধরনের বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে এসএসসির মাধ্যমে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ের নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র অর্থাৎ ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়।

সাদা খাতা জমা দিয়েও চাকরি

সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী অনেকেই এইরকম চাকরি করছেন যারা পরীক্ষায় একটাও উত্তর লেখেননি, সাদা খাতা জমা দেন। পরে দুর্নীতিতে যুক্ত এসএসসির কর্তারা সেই ওএমআর শিটে সঠিক উত্তর ভরে দিয়ে তাতে নম্বর বসিয়ে সাদা খাতা জমা দেয় এবং সেই ব্যক্তির নাম মেধা তালিকায় তুলে দেন!

সিবিআই প্রমাণ পেয়েছে, পরীক্ষায় কোন‌ও উত্তর না লিখেও পরে ৫০ বা ৬০ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নাম উঠেছে অনেকের এবং এরা সকলেই বর্তমানে চাকরি করছে।

আবার কেউ কেউ হয়তো তিনটে বা চারটে প্রশ্নের উত্তর লিখেই খাতা জমা দিয়ে দিয়েছিল। তাদের ক্ষেত্রেও একই রকমভাবে এসএসসির ভিতর থেকে খাতা ভর্তি করে নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৭ কে ৫৩, ১০ কে ৬০ নম্বর করা হয়েছে

এছাড়াও সিবিআই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর পাওয়া সত্বেও এসএসসির সার্ভারে সেই নম্বর তোলার সময় ৭ কে ৫৩, ১০ কে ৬০ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে শুধু পরীক্ষার খাতা দেখা নয়, এসএসসির সার্ভার রুমেও এই দুর্নীতির আঁচ পৌঁছে গিয়েছে বলে সিবিআইয়ের দাবি।

তাছাড়া দিনের আলোয় পরিষ্কার, মেধা তালিকায় ওঠা-নামানো করা, নম্বর বিভাজন প্রকাশ না করে, প্রথম ওয়েটিং লিস্ট বদলে নতুন ওয়েটিং লিস্টে পছন্দের লোকেদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া তো আছেই। সিবিআইয়ের এই রিপোর্ট দেখে হতবাক হয়ে যান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এজলাসে বসেই বলেন, ‘আই অ্যাম শকড’

জালিয়াতি করে পাওয়া চাকরি ছাড়ার জন্য সময়সীমা 

এরপরই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত শিক্ষা কর্তাদের পাশাপাশি দুর্নীতি করে চাকরি যারা চাকরি পেয়েছে তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন কোলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি। যারা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছে তারা যদি আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে ইস্তফা না দেয় তবে আদালত তাদের জন্য কঠিনতম পদক্ষেপ করবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি। অর্থাৎ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যারা এইভাবে বেআইনি পদ্ধতিতে চাকরি পেয়েছেন তাদের চাকরি যাবেই যাবে। 

কতজন কোন কোন বিভাগে কারচুপি করে চাকরি পেয়েছে?

সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী এসএসসির মাধ্যমিক স্তর অর্থাৎ নবম-দশমের শিক্ষক পদে কারচুপি করে চাকরি পেয়েছেন ৯৫২ জন। উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ একাদশ-দ্বাদশ স্তরে এইভাবে চাকরি করছেন ৯০৭ জন। এইভাবেই এসএসসির মাধ্যমে গ্রুপ সি অশিক্ষক কর্মী পদে চাকরি করছেন ৩,৮৮১ জনগ্রুপ ডি পদে ২,৮৩২ জন। অর্থাৎ মোট কারচুপির নিয়োগের সংখ্যা ৮,১৬৩

যারা এইভাবে দুর্নীতির সাহায্যে চাকরি পেয়েছেন তাদের চাকরি তো যাবেই। এমনকি এতদিনের বেতনও ফেরত দিতে হবে। সেইসঙ্গে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ করার ক্ষমতা আছে আদালতের। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কী হয়।

👍 প্রতিদিন চাকরির আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

Join Kajkarmo Telegram.jpeg

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 অষ্টম শ্রেনি পাশে ভারতের ডাক বিভাগে চাকরি

🎯 প্রাইমারি টেট পরীক্ষা ২০২২ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলো

🎯 WBPSC আরো একটি নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি