সরকারি চাকরির পরীক্ষা হিন্দিতে দিতে হবে? সরকারি কাজে হিন্দি ভাষা চাপানোর চেষ্টা কেন্দ্রের! আসল বিষয় জানুন

ভারত স্বাধীন হ‌ওয়ার পর অঙ্গরাজ্য পুনর্গঠন সরকারের সামনে এক জটিল সমস্যা ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই ভাষার ভিত্তি রাজ্য ভাগের দাবি প্রবল হয়ে ওঠে। তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সি ভেঙে গুজরাতি ভাষীদের জন্য গুজরাট ও মারাঠি ভাষায় কথা বলাদের জন্য মহারাষ্ট্র তৈরি হয়। এক‌ইরকম ভাবে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি ভেঙে গড়ে ওঠে তামিলনাড়ু ও কেরল।

মাদ্রাজ ও বোম্বে প্রেসিডেন্সির কিছুটা করে অংশ নিয়ে তৈরি হয় কর্নাটক। দেশের উত্তর-পূর্ব অংশেও এক‌ই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। এর পরে ধাপে আঞ্চলিক ভাষার ভিন্নতা দূর করতে ইংরেজিকে সরকারি অফিসের কাজের ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যে নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাতে যাবতীয় কাজ করা যাবে সেই কথা বলা হয়। কিন্তু সেই দিন বোধহয় ঘুচতে চলেছে।

Government jobs exam may be given in Hindi

হিন্দি আগ্রাসনের ভ্রূকুটি

উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি। যদিও কোন‌ও একটি ভাষা ভারতের জাতীয় ভাষা, এমন কিছু নেই। সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলে মোট ২২ টি ভাষা জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। এরমধ্যে হিন্দি যেমন আছে, তেমনই বাংলা, তামিল, অসমিয়া, সাঁওতালি প্রভৃতি ভাষাও আছে। যদিও উত্তর ভারতীয়রা অনেকেই মনে করে হিন্দি জাতীয় ভাষা! কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো বলিউড অভিনেত্রীকেও এই ভুল করতে দেখা গিয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ ভারত সহ ভারতের বাকি আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষ হিন্দির এই আগ্রাসন কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয়। বিশেষত দক্ষিণ ভারতে এই নিয়ে প্রতিবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। ষাটের দশকে হিন্দির আধিপত্য না মানার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তামিলনাড়ু। বস্তুত, আজ‌ও তামিলরা নিজের রাজ্যে সর্বান্তকরণে হিন্দিতে কথা বলা এড়িয়ে যেতে চায়। জানলে, বুঝলেও উত্তর দেয় না। কিন্তু নতুন করে হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইংরেজি-হিন্দি ভাষার সমস্যা ঠিক কী?

সংসদের ভাষা বিষয়ক কমিটি সদ্য সুপারিশ করেছে, দেশের যাবতীয় সরকারি কাজ ইংরেজির বদলে হিন্দিতে হোক। একমাত্র জাতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হোক হিন্দিকে।

কেন্দ্র সরকারের চাকরির পরীক্ষাতেও ঢুকবে হিন্দি

হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার পাশাপাশি এর ব্যবহারিক দিক নিয়েও বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে ওই সাংসদীয় কমিটি। সেই পরামর্শ বাস্তবায়িত হলে যে কোন সর্বভারতীয় পরীক্ষা আপনাকে হিন্দিতে দিতে হবেব্যাঙ্ক, রেল, স্টাফ সিলেকশন কমিশন সব কিছুতেই হিন্দিতে প্রশ্ন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, হিন্দি না জানলে আর সরকারি চাকরি পাবেন না!

নেট, সেটের মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলোও হিন্দিতে হবে।

হিন্দিকে সরকারি ভাষা করা হলে মাতৃভাষার সুযোগ কমবে 

মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ কমবে। কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ইংরেজি ও আঞ্চলিক ভাষার বদলে দেশের সর্বত্র হিন্দিতে পঠনপাঠনে জোড় দিতে হবে। ইংরেজিকে বড়জোর দ্বিতীয় ভাষা করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপনের অর্ধেক খরচ হিন্দিতে করতে বলা হয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সবক্ষেত্রে উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী ছেলে-মেয়েরা অনেকটা এগিয়ে যাবে। আর পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো আঞ্চলিক ভাষাভাষীর ছেলেমেয়েরা চাকরিই পাবে না। তাছাড়া ইংরেজি শেখার বিশেষ কোন‌ও দাম‌ই থাকবে না আর।

এছাড়াও সব কিছু হিন্দিতে হলে দেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ভিন্নতা নষ্ট হয়ে যাবে। আঞ্চলিক সংস্কৃতি ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হবে। সেই জায়গা নেবে উত্তরভারতের হিন্দি প্রধান সংস্কৃতি। মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ কমলে সাক্ষরতার হার‌ও কমবে।

তবে সংসদের ভাষা বিষয়ক কমিটির এই সুপারিশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলো সুর চড়াতে শুরু করেছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল হবে মারাত্মক। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মানার পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।

👍 প্রতিদিন চাকরির আপডেট মিস করতে না চাইলে আমাদের ‘টেলিগ্রাম চ্যানেলে’ যুক্ত হয়ে যান

Join Kajkarmo Telegram.jpeg

🔥 আরো চাকরির আপডেট 👇👇

🎯 আঁধার (UIDAI) দপ্তরে বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ

🎯 রাজ্যের হাই স্কুলের শিক্ষকদের বেতন কত?

🎯 পশ্চিমবঙ্গে প্রাইমারি শিক্ষকদের চাকরির শুরুতে বেতন কত দেওয়া হয়?